তীব্র রোদ আর দীর্ঘ লাইনের ধকল সইতে না পেরে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর নগরীর পর্যটন মোটেল রোডের সুরমা ফিলিং স্টেশনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার বিকেলে সুরমা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন শিক্ষক মেহেদী হাসান (৩২)। তিনি নগরীর উত্তর মুন্সিপাড়া এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে এবং লাহিড়ীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে মাটিতে ঢলে পড়েন মেহেদী হাসান। সেখান থেকে তাকে দ্রুত নিকটস্থ প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনে থাকা দুজন ব্যক্তি বলেন, “এতো দীর্ঘ লাইনে রোদে দাঁড়িয়ে থাকলে হিট স্ট্রোক হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। এভাবে তেল নেওয়া অনেক কষ্টকর।”
মেহেদী হাসান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০১০ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১২ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল রোববার (১২ এপ্রিল) বাদ জোহর কেরামতিয়া জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে মরহুমকে নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুরমা ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা রংপুর মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহে আলম।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজন মারা গেছেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটির পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/বিআরইউ
