মেহেরপুরে অনুকূল আবহাওয়া ও আগাম পরিচর্যার কারণে এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন বাগান মালিকরা। তবে হঠাৎ হপার ও জাব পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। সময়মতো প্রতিরোধ করা না গেলে মারাত্মক ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
জেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে প্রচুর আমের গুটি থাকলেও অনেক গুটি শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, হপার পোকা আমের গুটির বোটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে গুটি দুর্বল হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঝরে যাচ্ছে। পাশাপাশি জাব পোকার আক্রমণও বেড়েছে।
বর্তমানে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে অতিরিক্ত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিকরা। কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা জোরদার এবং বাগান পরিষ্কার রাখাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুরে প্রায় ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। হিমসাগর, আমরুপালি, ল্যাংড়া, ফজলি ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদন হচ্ছে জেলায়। এর মধ্যে মেহেরপুরের হিমসাগর আম ইতোমধ্যে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন

বাগান মালিক আব্দুর রব বলেন, এ বছর গাছে প্রচুর গুটি এসেছে। শুরুতে মনে হয়েছিল ভালো ফলন হবে। কিন্তু হঠাৎ করে হপার পোকার আক্রমণে অনেক গুটি ঝরে যাচ্ছে। এখন নিয়মিত পোকা দমনের জন্য কীটনাশক স্প্রে করছি, তারপরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
আরেক বাগান মালিক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গাছের নিচে প্রতিদিনই ঝরে পড়া গুটি দেখতে হচ্ছে। এতে করে আমাদের অনেক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সময়মতো যদি সঠিক পরামর্শ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায়, তাহলে ফলন কমে যাবে।
নাজমুল ইসলাম নামে এক আম ব্যবসায়ী জানান, এ বছর তিনি সাত-আটটি আমবাগান আগাম কিনেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও মুকুল আসার আগেই ভালো ফলনের আশায় বাগানগুলো কেনা হয়েছে। শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল ও গুটি দেখা গেলেও বর্তমানে গুটি ঝরে পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বেশি দামে বাগান কিনে যদি কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়া যায়, তাহলে লোকসানে পড়তে হবে।
বিজ্ঞাপন
আরেক ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জানান, এ বছর তিনি আগাম তিনটি আমবাগান কিনেছেন। মৌসুমের শুরুতেই গাছে ভালো মুকুল এসেছে এবং এখন গুটিও বেশ ভালো রয়েছে, যা ভালো ফলনের আশা জাগাচ্ছে। তবে সম্প্রতি পোকার আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি চিন্তিত। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, মেহেরপুরের আম সাধারণত দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় আগে পাকে। তাই আম ভাঙার সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হলে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। এতে চাষি ও ব্যবসায়ী-উভয়ই লাভবান হবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে আমের মুকুল ও গুটির অবস্থা বেশ ভালো ছিল। তবে বর্তমানে কিছু বাগানে হপার ও জাব পোকার আক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পোকা দমনে কৃষকদের সাইফারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার এবং সঠিক বাগিং পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরামর্শ মেনে চললে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মেহেরপুরের আম দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় আগে পরিপক্ব হয়। এ কারণে আম ভাঙার সরকারি সময়সূচি কিছুটা এগিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক সময় নির্ধারণ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকরভাবে পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবারও মেহেরপুরের আমচাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
এএমকে
