ভুল চিকিৎসা, ভ্রান্ত রিপোর্ট ও অদক্ষ জনবলের কারণে চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা। নগরের বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নামে চলছে অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং মানহীন সেবা।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে অপারেশন পর্যন্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই রোগীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ, অথচ সেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ বাড়তে থাকায় ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
এমন পরিস্থিতিতে তদারকির দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় অনিয়ম যেন নিয়ম হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বরং অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে।
চট্টগ্রামে ঠিক কতটি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালাচ্ছে— এই সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই খোদ তদারকি সংস্থার কাছেই। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ২২১টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন- বাস্তবে এই সংখ্যা সাড়ে পাঁচ শতাধিক। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠান হয় লাইসেন্সবিহীন, নয়তো মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রামের অন্যতম পরিচিত বেসরকারি হাসপাতাল পার্কভিউ হাসপাতাল। এখানে বহু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখেন, যার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এটি অনেকের কাছে আস্থার জায়গা হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রতি হাসপাতালটিকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। সেবার মানের তুলনায় অতিরিক্ত বিল আদায়, ভুল চিকিৎসায় প্রশ্ন উঠছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে গত ৩ মার্চ। অভিযোগ উঠেছে, ডেলিভারির সময় দুই নবজাতকের মাথার তালু কেটে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পার্কভিউ হাসপাতালের এক ফ্লোর ইনচার্জ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওইদিন (৩ মার্চ) ডেলিভারির সময় দুই নবজাতকের মাথা কাটার ঘটনা ঘটে। সকালের বিষয়টি পেশেন্ট পার্টিকে ম্যানেজ করে ধামাচাপা দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিকেলের ঘটনাটি নবজাতকের স্বজনদের কারণে জানাজানি হয়ে যায়। তখন সকালের ঘটনাটিও সামনে চলে আসে।
বিজ্ঞাপন
মাথার তালু কাটা যাওয়া নবজাতকের বাবা রুবেল মজুমদার বলেন, জন্মের পর বাচ্চাকে কোলে নেওয়ার সময় মাথার তালুতে কাটা দাগ দেখা যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে প্রথমে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে।
পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এক রোগীর স্বজন আলমগীর হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য আব্বুকে এখানে ভর্তি করিয়েছি। ৫ হাজার টাকার নিচে কেবিন পাইনি। অন্য হাসপাতালের তুলনায় বিভিন্ন টেস্টের দামও অনেক বেশি।
চট্টগ্রামের পরিচিত আরেক ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটিতে সনদবিহীন জনবল দিয়ে ব্লাড স্লাইড তৈরি, অদক্ষ টেকনোলজিস্ট দ্বারা এক্স-রে কার্যক্রম পরিচালনা, অনলাইন রিপোর্টের প্রমাণপত্রের ঘাটতি এবং রক্তের রিপোর্ট প্রস্তুতিতে অসঙ্গতিসহ ছয়টি অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া মৃত চিকিৎসকের নামে রিপোর্ট প্রদান এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে আসে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় প্রতিষ্ঠানে যদি এমন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পশ্চিম গেট সংলগ্ন ‘জেনেটিক ল্যাব’ নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দালালের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগ থেকে রোগীদের প্রলুব্ধ করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। একাধিকবার প্রশাসনিকভাবে বন্ধ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে আবার চালু হয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নগরীর গোলপাহাড়া মোড়ের মেট্রো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রেসহ বেশ কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন আশরাফুল ইসলাম রিদুয়ান নামে এক রোগী। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ব্লাডের স্যাম্পল দিয়ে নিচে এক্স-রে করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর এক্স-রে করার জন্য ডাকা হয়। রুমে প্রবেশ করার পর বলা হয়, মেশিন ডিস্টার্ব করতেছে। বাইরে একটু অপেক্ষা করতে হবে। এক্সরে করার মেশিন ডিস্টার্ব করায় ঠিকমতো রিপোর্ট দেবে কি-না সন্দেহ হচ্ছিল। কিন্তু আগে টাকা দিয়ে এন্ট্রি করার কারণে বাধ্য হয়ে এক্স-রে করাতে হলো।
নগরের পাঁচলাইশ এলাকার পলি হাসপাতালে ডেলিভারির জন্য সম্প্রতি নিজের ছেলের বউকে ভর্তি করান নুরুল আমিন। রাতে রোগীর কঠিন সময়ে চিকিৎসক না পাওয়ায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন ভোগান্তির কথা চিন্তা করে টাকা বেশি গেলেও এখানে ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু রাত আড়াইটায় যখন ছেলের বউয়ের ব্যথা শুরু হয় তখন চিকিৎসক ছিলেন না। চিকিৎসক না থাকায় আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবুও আল্লাহর রহমতে নিরাপদে ডেলিভারি হয়েছে।
শুধুমাত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ছোট-বড় অর্ধশতাধিক হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ ভবনে গাড়ি পার্কিং করার জায়গা নেই। এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেহেদীবাগের মাক্স হাসপাতালে পার্কিংয়ে প্রবেশ মুখে লোহার শেকল দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মেডিকেল সেন্টার, সিএসসিআর, মেট্রো ডায়াগনস্টিক, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইবনে সিনা ল্যাব, ল্যাবএইডসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে রোগীর জন্য পার্কিং ব্যবস্থা দেখা যায়নি। যার কারণে এাব প্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করতে হলে যথাযথ লাইসেন্স গ্রহণ, নির্ধারিত মান বজায় রাখা এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ছাড়া বা শর্ত লঙ্ঘন করে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে ভুল রিপোর্ট প্রদান বা অযোগ্য জনবল দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থার বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব আইন অনেক ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে খোদ তদারকি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মান নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত তদারকি করার কথা থাকলেও চট্টগ্রামে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে তদারকি কার্যক্রম নিয়মিত হয় না, বরং অনিয়মের বিষয়ে অভিযান পরিচালনায়ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়। কোনো কোনো সময় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হস্তক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। গত বছরের জুলাই মাসে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চলাকালে সিভিল সার্জন অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযান পরিচালনা ও জরিমানার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়— এমন অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়াও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে- প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়। একটি ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট এলাকায় শাখা খোলার বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং তাতে সম্মত না হওয়ায় পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযান ও শোকজ করা হয়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করা হয়, আবার কোথাও তদারকির নামে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়। সরকারি হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষে অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী অনেক ছোট ডায়াগনস্টিক ল্যাব ও ক্লিনিক ‘ম্যানেজের’ মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তদারকি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ না হয়ে বরং নিয়মিতভাবে চালু রাখা হয়। একই সঙ্গে বড় কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অনুদান বা সহযোগিতার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার (৩ মার্চ) চট্টগ্রাম বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ.কে.এম ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এদিন তিনি প্রোগ্রামে আছেন জানিয়ে পরদিন যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে পরদিনও একাধিকবার তাকে কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার কর্ণফুলীতে একটি ল্যাব বন্ধ করে দিয়েছি। মহানগরের তিন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছি। হালিশহরে শেভরনসহ যেখানে অসঙ্গতি মনে হয়েছে আমরা তাদের সতর্ক করে দিয়েছি। সেখানে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকও ছিলেন। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
তিনি বলেন, এখন একটু হামের প্রকোপ নিয়ে ব্যস্থ আছি। তবুও আমরা নিয়মিত অভিযান চলমান রাখবো। হামের প্রকোপ নিয়ে হাসাপাতাল-ডায়াগস্টিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা মিটিং করেছি। যাতে কোনো হামের রোগীদের বিষয়ে কোনো অবহেলা না করা হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পার্কভিউ হাসপাতালে নবজাতকের মাথার তালু কেটে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই বিষয়ে নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। হাসপাতালের কাছে এটি জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, অসাবধানতাবশত ওই ঘটনা ঘটেছে। বাচ্চার গার্ডিয়ানকে তারা বুঝিয়ে বলেছেন। তবুও যেন এমন ঘটনা আর না হয় আমরা শক্তভাবে বলেছি।
এমআর/আরএমএন/আরএআর
