ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে বসতঘর ও জমিজমা বিক্রির টাকাসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খোয়ানোর পর অবশেষে দুধ দিয়ে গোসল করে অনলাইন জুয়া ছাড়লেন মো.ইউসুফ (৩০) নামে এক যুবক।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোকফার দোকানের দক্ষিণ পাশে শ্বশুর বাড়ি এলাকার নির্জন স্থানে গোসল সম্পন্ন করেন তিনি।
ইউসুফ একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তমুন্সি গ্রামের বাসিন্দা মো.সিদ্দিকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কনস্ট্রাকশানের সাব-ঠিকাদারির কাজ করেন এবং মৎস্য খামারী।
ইউসুফ ঢাকা পোস্টকে জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি কনস্ট্রাকশন ও মাছের খামারের ব্যবসা করে জমিজমা ক্রয় ও একটি একতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। বিয়ের পর ভালোই চলছিলেন। গত ৩ বছর আগে হটাৎ মোবাইল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জুয়ার অ্যাপ ইনস্টল করে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। অনলাইন জুমার নেশায় একটি একতলা বাড়িও বিক্রি করে দেন। সেই টাকাও জুয়ায় খোয়ান, এরপর কৌশলে তার মায়ের নামে থাকা আরও ৮ শতাংশ জমিও বিক্রি করেন এবং সে টাকাও খোয়ান।
বিজ্ঞাপন
মো.ইউসুফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রায় ৩০ লাখ নগদ টাকা অনলাইন জুয়ায় খোয়ানোর পর আমি বুঝতে পেরেছি এটি সর্বনাশের পথ। এছাড়া ৫ লাখ টাকা ধার করেও হেরেছি। সর্বস্ব হারানোর পর আমি আমার ভুল বুঝতে পেরে পেরেছি। আজ স্থানীয় বাজার থেকে ৫০০ গ্রাম গরুর দুধ কিনে দুধ দিয়ে গোসল করে অনলাই জুয়া খেলা ছেড়েছি। আমি চাই না কেউ কোনোভাবে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হোক।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে একটাই অনুরোধ, সরকার যেন অনলাইন জুয়া বন্ধের কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কেউ একবার এ জুয়ায় আসক্ত হলে তার বেরিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর। আজ আমি দুধ দিয়ে গোসলের উদ্দেশ্য হলো এই বার্তা দেওয়া যে কেউ যেন অনলাইন জুয়ায় না জড়ায়।
অনলাইন জুয়া ছেড়ে ইউসুফের দুধ দিয়ে গোসলের ঘটনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মনিরুজ্জামান। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, অনলাইন জুয়া একটি অপরাধ।
বিজ্ঞাপন
মো.খাইরুল ইসলাম/এনটি
