বিজ্ঞাপন

দাউদকান্দির ভেঙে ফেলা সেই সরকারি ভবন নিয়ে ইউএনওর বিবৃতি

দাউদকান্দির ভেঙে ফেলা সেই সরকারি ভবন নিয়ে ইউএনওর বিবৃতি

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন (পায়রা ভবন) নিলাম ব্যতিরেকেই ভাঙা ও মালামাল বিক্রির বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তার।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিবৃতিটি প্রচার করা হয়।

বিবৃতিতে ইউএনও নাছরীন আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি দাউদকান্দিতে যোগদানের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শুক্র ও শনিবার ঢাকায় অবস্থান করেন। এ সময় কে বা কারা ওই পায়রা ভবনটি ভেঙে মালামাল নিয়ে যায় সে বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা বা সংশ্লিষ্টতা নেই।

ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তেজিত জনতা পায়রা ভবনটিতে অগ্নিসংযোগ করার বিষয়টি তিনি দাউদকান্দিতে যোগদানের পর জানতে পারেন। চলতি জুলাই মাসে কর্তৃপক্ষ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে ইউএনও লেখেন, একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও অনভিপ্রেত।

বিবৃতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে ইউএনও নাছরীন আক্তার দাউদকান্দিবাসীর প্রতি গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ারও অনুরোধ জানান।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ঢাকা পোস্টে ‘সরকারি ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যাতে উল্লেখ করা হয়, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন নিলাম, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান এবং এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা ব্যতিরেকেই ভেঙে মালামাল বিক্রি করে দেওয়া হয়। ওই সংবাদে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা, জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়। অনুসন্ধানে বিভিন্নজনের বক্তব্যে ইউএনও নাছরীন আক্তারের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে আসে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউএনও নাছরীন আক্তারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য ব্যতিরেকেই সংবাদ প্রকাশ হয়। তবে সংবাদ প্রকাশের পর ওইদিন রাতে ইউএনও নাছরীন আক্তার প্রতিবেদককে ফোন করে তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের কথাগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়ে নিজের বক্তব্য জানান। পরে সেই সংবাদে ইউএনও নাছরীন আক্তারের বক্তব্য সংযুক্ত করা হয়।

আরিফ আজগর/এএমকে