৪৫ ঘণ্টাতেও স্কুলছাত্রের খোঁজ মেলেনি, মা-বাবার আহাজারি

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি

২৬ আগস্ট ২০২১, ১১:৩০ এএম


৪৫ ঘণ্টাতেও স্কুলছাত্রের খোঁজ মেলেনি, মা-বাবার আহাজারি

৪৫ ঘণ্টাতেও নিখোঁজ ছাত্র নেয়ামত উল্লাহকে উদ্ধার করা যায়নি। মঙ্গলবার ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল নিখোঁজের সন্ধান চেষ্টা চালালেও বুধবার তাদের কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি।

এদিকে নেয়ামত উল্লাহর বাবা বারেক হাওলাদার আহাজারি করে সন্তানকে খুঁজে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারের প্রতি। সারাক্ষণ একই আহাজারি করছেন নেয়ামতের মা।

নেয়ামতের মেঝ ভাই ফাইজুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, উদ্ধার কাজের দ্বিতীয় দিন কেউ না আসায় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে, আজকে দিনটা (গতকাল) অপেক্ষা করেন, লাশ যদি ভেসে না ওঠে তাহলে কাল (আজ) আবার চেষ্টা করে দেখব আমরা। 

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিডবোটসহ একটি প্রাইভেট ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে যাবে।

বুধবার ঘটনাস্থলে না আসার কারণ জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নলছিটি স্টেশন অফিসার আবুল হোসেন রাতে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমাদের আর কেউ কিছু জানায়নি। আমাদের ঊর্ধ্বতন স্যাররা আদেশ না দিলে আমরা কোথাও যেতে পারি না। তবুও রাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক খানের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিয়েছি।

পশ্চিম দেউরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফায়ার সার্ভিস থেকে রাতে ফোন দিয়েছিল। তবে কেন আসেনি সে বিষয়ে কথা হয়নি।

সাইক্লোন শেল্টার কাম বিদ্যালয়ের একাংশ বিলীন হওয়ার পর থেকেই জরুরি ভিত্তিতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলছে। এরই মধ্যে নদীর পাশ থেকে স্কুলের বারান্দায় উঠার অবশিষ্ট পথটি মঙ্গলবার রাতে বিলীন হয়ে গেছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান শুভ ঢাকা পোস্টকে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যার আওতায় ৪ হাজার ৮০৮টি বালুর বস্তা ফেলা হবে। দুই দিনে ১৮৮ বস্তা ফেলা হয়েছে।

সর্বশেষ আজ সকাল সাড়ে ৯টায় সরেজমিনে দেখা যায়, নদীপাড়ের টিউবওয়েল সংলগ্ন জায়গায় আরও এক ফুট ভেঙে গেছে। কয়েক ফুট জায়গা নিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে।

ফাটল ও ভাঙনের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক খান বলেন, আমরা কেউ স্কুল ভবনে যাচ্ছি না। গতকাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম পরিদর্শনে এসে একই নির্দেশনা দিয়েছেন। যাতে স্কুলে মালামাল যতটুকু থাকুক আমরা যেন প্রবেশ না করি।

তিনি আরও জানান, ভাঙন অব্যাহত থাকায় বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে বিপৎসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে স্কুল ও অবশিষ্ট সাইক্লোন শেল্টারে যেন কেউ না আসে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাইক্লোন শেল্টারের একাংশ ও মসজিদটি বিলীন হয়ে যায়। এ ঘটনায় মেহেদী হাসান (১৬) নামে এক কিশোর আহত হয়। ঘটনার পর নেয়ামত উল্লাহ নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ নেয়ামত স্থানীয় বারেক হাওলাদারের ছেলে। 

প্রত্যক্ষদর্শী খাইরুল জানিয়েছিল, ভবনটি যখন দেবে যাচ্ছিল তখন আমার আত্মীয় নেয়ামতুল্লাহ মোবাইলে ভিডিও করছিল। আমি দৌড়ে সরে যেতে পারলেও নেয়ামত বিল্ডিংয়ের নিচে চাপা পড়ে যায়।

এ ঘটনার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রশান্ত কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবেকুন নাহার, এনডিসি আহমেদ হাসান।

ইসমাঈল হোসাঈন/এসপি 

Link copied