শরীয়তপুরে ৩ বিদ্যালয়ে পানি, পাঠদান খোলা জায়গায়

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪২ পিএম


শরীয়তপুরে ৩ বিদ্যালয়ে পানি, পাঠদান খোলা জায়গায়

শরীয়তপুরে বেশ কয়েক দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পানি ঢোকার কারণে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে।

পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মৃধা কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে ও চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়ির বারেন্দায় ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। 

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর ধরে করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম দিন নড়িয়ায় একটি বিদ্যালয়ে পানি থাকায় পাশের বাড়ির বারান্দায় ক্লাস নিতে হয়েছিল। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলায় তিনটি বিদ্যালয়ে পানি ওঠে। এতে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্যান্ডেলের ভেতরে বসে ক্লাস করছে। অন্যদিকে পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে মাটিতে বিছানা করে ক্লাস করছে। পাশেই বসে আছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের মাঠে পানি। যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই।

চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলেনা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকেছে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধের পর খোলার পরও এমন কষ্ট শিক্ষার্থী ও আমরা শিক্ষকরা করছি। পানি কমে গেলে সব সমস্যার সমাধান হবে। এখন খোলা আকাশের নিচেই ক্লাস নিচ্ছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হানিফ, খোকনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অনেক দিন পর স্কুল খুলেছে আমাদের। কিন্তু বিদ্যালয়ে যেতে পারছি না। খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠে ও যাওয়ার রাস্তায় পানি। আমরা স্কুলে যেতে পারছি না। অনেকেই স্কুলে আসনি এ কারণে।

শরীয়তপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল বন্ধ রেখে অন্যত্র ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। পানি কমে গেলে বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু করা হবে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কষ্ট হচ্ছে পাঠদানে।

সৈয়দ মেহেদী হহাসান/এনএ

Link copied