ফজলি এখন রাজশাহীর আম

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

২২ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩২ এএম


ফজলি এখন রাজশাহীর আম

ফলের রাজা আমের আদি রাজধানী রাজশাহী। আমের সঙ্গে মিশে আছে এখানকার ইতিহাস-ঐতিহ্য। ৫০০ আগেও রাজশাহীতে রাজত্ব ছিল আমের। ৫০০ বছর আগে নির্মিত জেলা বাঘা শাহী মসজিদের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে আমের নকশা। ২০০ বছর আগেও কলকাতার বাজারে ফজলি আম বিক্রি হতো বাঘা ফজলি হিসেবে।

এখন থেকে ‘রাজশাহীর ফজলি আম’ হিসেবে পরিচিতি পাবে ফজলি। গত ৬ অক্টোবর সুমিষ্ট এই আম রাজশাহীর ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। ফজলির জিআই স্বীকৃতি পেতে ২০১৭ সালের ৯ মার্চ আবেদেন করে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন। তিনি বলেন, ৬ অক্টোবর প্রকাশিত শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেড মার্ক তাদের ‘দ্য জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিকেশনের’ (জিআই) ১০ নম্বর জার্নালে এটি প্রকাশ হয়। তাতেই ফজলিকে ‘রাজশাহীর ফজলি আম’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ড. আলীম উদ্দীন বলেন, জেলার নয় উপজেলাতেই ফজলি আমের চাষ হয়। এর মধ্যে বাঘা উপজেলার ফজলি আমের পরিচিতি দেশজুড়ে। ২০০ বছর আগে কলকাতার বাজারে ফজলি আমের পরিচিত ছিল বাঘা ফজলি হিসেবে। এই ইতিহাস তুলে ধরে জিআই পণ্যের স্বীকৃতির আবেদন করা হয়।

এর পেছনের ঐতিহাসিক তথ্যও উপস্থাপন করা হয়েছে। ফজলি রাজশাহীর এটি আর অস্বীকার করার উপায় নেই। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত পাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজশাহীর ফজলি এখন সারা দেশের সম্পদ।

এই ফল গবেষক আরও জানান, ফজলি মূলত নাবী মৌসুমি জাতের আম। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এটি পাকতে শুরু করে। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এটির সংগ্রহকাল। ফল পাড়ার পরে পাকতে ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগে। মুকুল আসা থেকে ফল পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে ৫ মাস।

এই ফল বেশ বড়, লম্বাটে চ্যাপ্টা আকারের হয়ে থাকে। ফলটি গড়ে লম্বায় ১৩ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার, পুরুত্বে ৭ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার এবং গড় ওজন ৬৫৫ গ্রাম হয়। পাকা ফলের ত্বকের বর্ণ প্রায় সবুজ থেকে হালকা হলুদাভ হয়। আর শাঁসের রং হলুদ। ফজলি আম খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি। খোসা পাতলা, আঁটি লম্বা, চ্যাপ্টা ও পাতলা।

এর আগে ২০১৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায় খিরসাপাতি আম। এছাড়া এই বছরের এপ্রিলে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি রাজশাহীর সিল্ক।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এসএসআর

Link copied