পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালে রোগীদের ভরসা ফার্মাসিস্ট

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০২ এএম


পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালে রোগীদের ভরসা ফার্মাসিস্ট

বাংলাদেশ রেলওয়ের বৃহত্তম জংশন দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন। এখানে কর্মরত কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ১৬ শয্যা বিশিষ্ট একটি মাত্র হাসপাতাল। তবে হাসপাতাল থাকলেও নেই কোনো চিকিৎসক। চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ১৫ হাজারের মতো রেল পরিবারের সদস্যরা। তবে হাসপাতালে রোগীদের একমাত্র ভরসা ফার্মাসিস্ট। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালে মঞ্জুরিকৃত পদে অতিরিক্ত বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার একজন, সহকারী সার্জন দুজন, ফার্মাসিস্ট দুজন, সিস্টার ইনচার্জ একজন, সিনিয়র নার্স তিনজন, জুনিয়র নার্স একজন, ড্রেসার একজন, ওয়ার্ড অ্যাটেনডেন্ট ছয়জন, ওষুধ ক্যারিয়ার (এমসি) একজন, বাবুর্চি একজন, মশালাচি একজন, আয়া দুজন, নিরাপত্তা প্রহরী দুজন এবং পরিচ্ছন্নকর্মী পাঁচজন কর্মরত থাকার কথা। তবে কোনো মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জন না থাকায় এবং ১৪টি পদে ২৯ জনের বিপরীতে ১৩ জন লোকবল নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম।

Dhaka Post

সেবা নিতে আসা রেল কর্মচারী মৃনয় রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, হাসপাতালে আগে নিয়মিত ডাক্তার আসতেন। পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা আমি নিজেও অসুস্থ হলে এখানেই চিকিৎসা নিতাম। এখন ডাক্তার নেই। চিকিৎসাও পাই না।

রেল পরিবারের সদস্য আব্দুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আসছি। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় আমার মতো অনেকেই এসে ঘুরে যাচ্ছেন।

পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় কর্মরত ছাড়া তাদের পরিবারসহ প্রায় ৪-৫শ মানুষ প্রতি মাসে এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকে।

Dhaka Post

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসকদের পদগুলো পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ায় দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। আবার পদগুলো নন ক্যাডার হওয়ায় নিয়োগের পর চিকিৎসকরা এখানে থাকতে চান না। ফলে যোগদানের পর তারা স্বাস্থ্য বিভাগে চলে যান। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের যথেষ্ট উন্নয়ন হওয়ায় এখানকার  কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন না।

রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের বিভাগীয় মেডিকেল অফিসার আনিসুল হক মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত বছর একজন মেডিকেল অফিসার ছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগ পাওয়ায় তিনি সেখানে যোগদান করেছেন। বর্তমানে এখানে কেউ নেই। 

এসপি

Link copied