৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক এবার চেয়ারম্যান প্রার্থী

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর

২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪৫ পিএম


৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক এবার চেয়ারম্যান প্রার্থী

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া সেই মাদরাসা শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির মঞ্জু জামিনে বেরিয়ে এবার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন। তিনি উপজেলার হামছাদী কাজিরদিঘীরপাড় আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে মঞ্জুর পক্ষে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও মো. ইউছুপ পাটওয়ারীসহ স্থানীয় জামায়াতের ৮-১০ জন নেতাকর্মী উপজেলা পরিষদে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। 

এর আগে সোমবার (২৫ অক্টোবর) জামিনে বেরিয়ে তাৎক্ষণিক এক বক্তব্যে ইউপি নির্বাচনের প্রস্ততি নেওয়ার জন্য শুভাকাঙ্খীদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বামনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে এম মোস্তাক আহমেদ বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি এসে মঞ্জুরুল কবির নামের এক প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। এছাড়া বুধবার পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে ৬ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন। তৃতীয় ধাপের এ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম জমা শেষ দিন ২ নভেম্বর। ভোট ২৮ নভেম্বর হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির মঞ্জুর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে রাত ৮টার দিকে দুইবার কল করলে তিনি কেটে দিয়েছেন। তবে চুল কাটার ঘটনার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেছিলেন, নৈতিকতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কয়েকজন ছাত্রের চুল কাটা হয়েছে। এর আগে ছাত্রদের চুল কেটে প্রতিষ্ঠানে আসতে বলা হয়েছিল।

রায়পুর থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার হামছাদী কাজিরদিঘীরপাড় আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ১৮ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পাঠ কার্যক্রমে অংশ নেয়। এক পর্যায়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির দশম শ্রেণির (দাখিল) ৬ ছাত্রকে দাঁড় করিয়ে শ্রেণিকক্ষের সামনের বারান্দায় আসতে বলেন।

এসময় তিনি উত্তেজিত হয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একটি কেচি এনে একে-একে সবার মাথার টুপি সরিয়ে সামনের অংশের চুল এলোমেলোভাবে কেটে দেন। পরে তারা লজ্জায় ক্লাস না করেই বেরিয়ে যায়। এ ঘটনার ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ৮ অক্টোবর সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখা যায়। ওই রাতেই শিক্ষক মঞ্জুকে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীরপাড় এলাকা থেকে আটক করা হয়।

মধ্যরাতেই মাদরাসা ছাত্র শাহাদাত হোসেনের মা শাহেদা বেগম বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৯ অক্টোবর বিকেলে তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ১৪ দিন পর সোমবার আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। 

হাসান মাহমুদ শাকিল/এমএএস

Link copied