নাগেশ্বরীর সাত সাহসী কিশোরী

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

০২ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৫৩ পিএম


নাগেশ্বরীর সাত সাহসী কিশোরী

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতী খাতুন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের হাউসেরহাট গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে। তার বাবা পেশায় একজন কৃষিশ্রমিক। তবু লেখাপড়া করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু দারিদ্র্য তার সে স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একসময় মা-বাবা তার বিয়ে ঠিক করেন। এত কম বয়সে কোনোমতেই সে বিয়ে করবে না বলে গোঁ ধরে। বাধ্য হয়ে নিজেই বিয়ে ভেঙে দেয়।

জান্নাতীর মতো আরও ছয় কিশোরী নিজেই ঠেকিয়েছে নিজের বাল্যবিবাহ। তাদের কেউ দশম শ্রেণিতে, কেউ নবম শ্রেণিতে, আবার কেউ এসএসসি পরীক্ষার্থী। এখন কারোরই আর ইচ্ছা নেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার। তারা এখন প্রতিষ্ঠত হতে চায়।

সোমবার (১ নভেম্বর) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে জাতীয় যুব দিবসের একটি অনুষ্ঠানে মেয়েশিশুদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ সম্মাননাসহ শিক্ষা উপকরণ, নগদ অর্থ ও মনীষীদের বই উপহার দেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম।

উপজেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জাকিয়া সুলতানা বুবলীর অর্থায়নে এবং সিডা ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায়, আরডিআরএস বাংলাদেশ বিল্ডিং বেটার ফিউচার ফর গার্লস (বিবিএফজি) প্রজেক্টের সার্বিক সহযোগিতায় এর আয়োজন করা হয়।

পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো হাসনাবাদ আদর্শ জনতা বিদ্যা বিতান উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতী খাতুন, গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা, নেওয়াশী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আলেয়া খাতুন, বেরুবাড়ী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সীমা খাতুন, নাখারগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী খালেদা খাতুন, রায়গঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী ইশফা খাতুন ও জেডি একাডেমীর দশম শ্রেণির ছাত্রী মিনু আক্তার।

ভিতরবন্দ ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকার আবুবক্কর সিদ্দিকের মেয়ে মিনু আক্তার ভিতরবন্দ জেডি একাডেমীর দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে বলে, যার যার যোগ্যতা তার তার কাছে। আমি আমার নিজ যোগ্যতায় বড় হতে চাই। কারও ওপর নির্ভরশীল হতে চাই না। 

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর আহমেদ মাছুম জানান, সাত কিশোরী নিজেদের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে পেরেছিল। তারা নাগেশ্বরীর সাহসী কিশোরী। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের আমরা সম্মাননা দিয়েছি। অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা কিছু পুরস্কার দিয়েছি।

এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনা বেগম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মনজুর আলম, বিবিএফজি প্রজেক্টের উপজেলা সমন্বয়কারী রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

মো. জুয়েল রানা/এনএ

Link copied