কাজে গিয়ে ৪ দিন ধরে যমজ ভাই নিখোঁজ

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা

১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২৩ পিএম


কাজে গিয়ে ৪ দিন ধরে যমজ ভাই নিখোঁজ

চার দিন আগে নিজ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে এখনো বাড়িতে ফেরেনি পাবনার চাটমোহর উপজেলার যমজ দুই ভাই। তাদের দুজনের মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় রোববার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তাদের বাবা চাটমোহর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

নিখোঁজরা হচ্ছে- চাটমোহরের মথুরাপুর ইউনিয়নের সারড়া গ্রামের তফিকুল ইসলামের ছেলে মো. তুষান ইসলাম (১৪) ও মো. ইষান ইসলাম (১৪)। 

থানা সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে তুষান চাটমোহর বালুচর মাঠের পাশে শাহ্ আলমের রংয়ের দোকানে কাজ করে। আর ইষান ভাদুনগর বাজারে মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দোকানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় দুই ভাই। পরবর্তীতে তারা আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে রোববার পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার।

নিখোঁজদের বাবা তফিকুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার সকালের খাবার খেয়ে দুপুরের খাবার নিয়ে কাজে বের হয় তুষান ও ইষান। রাতে তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় আমরা পারিবারিকভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খোঁজখবর নিতে থাকি। এরপর অনেক জায়গায় খুঁজেও তাদের পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। তাদের হয়ত কেউ গুম করে রেখেছে। দুই ছেলের আয়ের টাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে আছি। কোনোভাবে তাদের নিখোঁজ হওয়া মেনে নিতে পারছি না। দ্রুত তাদেরকে খুঁজে বের করার জন্য কাজ করার অনুরোধ জানাই। 

চাটমোহর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে থানায় নিখোঁজদের বাবা বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে তারা দুজনই ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছে। হয়তো পরিবারের কারও সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় আত্মগোপনে রয়েছে। 

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, দুজন ছেলে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে বের হওয়ার চার দিন অতিবাহিত হলেও এখনো বাড়িতে ফিরে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন সবাই উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছে। থানায় জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। আশা করি দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়া যাবে। 

রাকিব হাসনাত/আরএআর

Link copied