বাবার কথা রাখল মিম, পেল জিপিএ ৫

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর

৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৩৭ এএম


বাবার কথা রাখল মিম, পেল জিপিএ ৫

শ্রাবণী আক্তার মিম

মা-বাবা-ভাইকে নিয়ে সুখেই কাটছিল শ্রাবণী আক্তার মিমের জীবন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবার সংসারে কখনো অভাব বুঝতে পারেনি। কিন্তু হঠাৎ এক ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় পুরো সংসার। বাবার আদর-স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে মিম। ঠাঁই হয় নানা বাড়ি। কিন্তু টাকার অভাবে তার পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার অবস্থা। এমন সময় বড় খালা বাড়িয়ে দেন সহায়তার হাত। চলতে থাকে পড়ালেখা। দীর্ঘ দিন পর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ হলেও তিনি জানিয়ে দেন, এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেলেই তিনি মিমের পড়ালেখার খরচ দেবেন। বাবার সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে মিম। অবশেষে সে অর্জন করল জিপিএ ৫।

মিম নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া বাজার এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েন উদ্দীন কুড়ানের নাতনি। তার বাবা আজিজ সোনার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মিম দিঘাপতিয়া বাজার এলাকার উত্তরা বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে। সে পিএসসিতেও জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

শ্রাবণী আক্তার মিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা শেষ করে ডাক্তার হতে চাই। গ্রামের অসহায়, গরিব মানুষের সেবা করতে চাই।

মিম জানায়, বাবা তাকে পড়ালেখার খরচ দিতে চেয়েছেন। তবে পড়ালেখার প্রয়োজনীয় খরচ না পেলে কিভাবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে তা নিয়ে দুশিন্তায় রয়েছে।

মিমের মা জয়নব খাতুন বিউটি বলেন, মিমকে ঠিকমতো দুমুঠো ভাত দিতে পারিনি। কোনো প্রাইভেট দিতে পারেননি। বড় বোন আর দুলাভাই মিমের পড়ালেখার সবসময় পাশে থেকে সহায়তা করেছেন। বাবার আদর বঞ্চিত মেয়ে ভালো ফলাফল করায় তিনি গর্বিত।

মিমের নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েন উদ্দীন কুড়ান জানান, মিম জিপিএ ৫ পাওয়ায় তিনি গর্বিত। মিমের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

উত্তরা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম ইমতিয়াজ জানান, বিদ্যালয়ের ১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করলেও একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে মিম। সে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী দাবি করে বলেন, মিমের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে তিনি শিক্ষক হিসেবে গর্বিত হবেন। 

তাপস কুমার/এসপি

Link copied