ফিনটেক পুঁজিবাজারের নতুন এক সম্ভাবনা

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৯ জুন ২০২২, ০৯:৩২ পিএম


ফিনটেক পুঁজিবাজারের নতুন এক সম্ভাবনা

ফিনটেক হলো ফাইন্যান্স, ইকোনমিক্স, অ্যাকাউন্টিং ও ইনফরমেশন টেকনোলজিসহ সব কিছুর একটি সমন্বিত জ্ঞান৷ ফিনটেক ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্ট, প্রসেস এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উন্নত টেকনোলজি যেমন-আরবিট্রেশন ইন্টিলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, ব্লক চেইন, ডেটা এনালাইটিক্স এগুলোর মাধ্যমে নিত্য নতুন সার্ভিসগুলোকে আরও মর্ডানাইজ করে৷ আমাদের পুঁজিবাজারে ফিনটেক নতুন এক সম্ভাবনা বলে মনে করেন বক্তরা।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) চার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান তারা। বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সমাপনীতে ডিএসইর ট্রেনিং একাডেমির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক সাঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর পরিচালক সালমা নাসরিন, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিআইসিএমের অ্যাক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার৷

ডিএসইর পরিচালক সালমা নাসরিন বলেন, ফিনটেক হলো ফাইন্যান্স এবং টেকনোলজিরই কম্বিনেশন৷ এটি একটি অতি সাম্প্রতিক বিজনেস ইস্যু যা ফিনান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে৷ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ভাষায় এটি হচ্ছে অন-লাইন বা মোবাইল সল্যুউশান৷ যেমন লেনদেন, পেমেন্ট, ইন্সুরেন্স ট্রান্সফার ও ইনভেস্টমেন্টস, একাউন্টিং-ইন্সট্রুমেন্টস অ্যান্ড ক্রেডিট এমনটি অন্যান্য সার্ভিসও এর অন্তর্ভূক্ত৷

৭-৮ বছর আগেই আর্থিক শিল্পগুলো তাদের বিজনেস প্রসেস ও প্রোডাক্ট এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কাস্টমারকে আকৃষ্ট করার জন্য ফিনটেক ব্যবহার করছে৷ তাই বলা যায়, ফিনটেক বিশ্বব্যাপী ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ধারনাটাকেই বদলে দিয়েছে৷

এশিয়াতে ফিনটেক-এ জাপান ৪র্থ, ভারত ৫ম, দক্ষিণ কোরিয়া ৬ষ্ঠ, ফিলিপাইন ১১ তম এবং পাকিস্তান ১৫ তম এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নে৷ আমরা গ্রহণ করি বা না করি ফিনটেক কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে এসেছে৷ ফিনটেকের কারণে আমাদের দেশের আর্থিক অর্ন্তভুক্ত হয়েছে৷ 

২০১৭ সালেই বিশ্বে ফিনটেক ইনভেস্টমেন্ট ১৮ শতাংশ বেড়েছে৷ অ্যাপেল থেকে আলিবাবা সবাই ফিনটেকের দিকেই ছুটছে৷ আজ ব্যবসা যত ডিজিটাল হচ্ছে ফিনটেকের চ্যালেঞ্জও বেড়ে যাচ্ছে৷ তবে ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে প্রযুক্তির কোন বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

বিআইসিএমের এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার তৃণমূল স্তরের মধ্যে ফিনটেকের প্রয়োগকে কাজে লাগানোর পথ তৈরি করেছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবাগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের জীবনকে আরও সহজ করে তুলেছে।

স্বাগত বক্তব্যে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এম. সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ডিএসইর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক যোগদানের পর আইটি ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আর এ জন্য ডিএসইর অধিকাংশ কর্মকর্তাদের আইটি বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আর ফিনটেক যেহেতু নতুন একটি ধারণা সেই হিসেবে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) সহযোগিতায় ডিএসই আয়োজিত ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি (ফিনটেক) সম্পর্কে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত চার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়৷

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ফিনটেক পরিচিতি, গ্লোবাল এবং বাংলাদেশ ফিনটেক মার্কেট, ফিনটেক প্রযুক্তি ও এর এপ্লিকেশন, ফিনটেকের বিভিন্ন ব্যবহারকারী সম্পর্কে বর্ণনা, ফিনটেক কোম্পানির সক্ষমতা, ফিনটেক গ্রহণ ও বিনিয়োগের নীতি এবং অনুশীলন, ফিনটেক থেকে রেগটেক এবং পলটেক, ফিনটেকের বিনিয়োগ শিক্ষা, অন্তর্ভূক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ফিনটেক ক্যাপাস্টোন প্রকল্প ইত্যাদি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়৷

ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালার লিড ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. সূবর্ণ বড়ুয়া৷ অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।

এমআই/আইএসএইচ

Link copied