পুঁজিবাজারে নতুন বছরে উত্থানের ধারা অব্যাহত, লেনদেনেও গতি বেড়েছে

নতুন বছর (২০২৬ সাল) শুরু হতেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পুঁজিবাজার। বছরের প্রথম কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে উত্থান হওয়ার ধারাবাহিকতায় আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। এদিন অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দরবৃদ্ধি হওয়ার পাশাপাশি সবগুলো সূচক বেড়েছে। আর লেনদেন প্রায় একমাস পর ৫০০ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছে।
সদ্য বিদায় নেওয়া ২০২৫ সালে পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কার্যদিবসেই বেশিসংখ্যক শেয়ারে দরপতন হয়েছে। এতে বছরটিতে সবগুলো মূল্যসূচক কমেছে। এর মধ্যে বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫১ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে নেমে যায়। এরপর নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবসে সূচকের বড় উত্থান হলো।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এমনকি লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও বাড়ে।
এতে নতুন বছরের প্রথম দুই কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললো। রোববার দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৩টির। আর ৪৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৮টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৪১টির দাম কমেছে এবং চারটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৪টির এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৮৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
প্রধান মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৩৭ কোটি ৪১ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৬৮ কোটি ১৫ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ২৫ নভেম্বরের পর ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হলো।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরা ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— সায়হাম কটন, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, সোনালী পেপার, যমুনা ব্যাংক এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১২৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬১টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
এমএমএইচ/এসএম