দ্রুত সময়ের মধ্যে কমোডিটি মার্কেট চালু করতে যাচ্ছে সিএসই

দেশের পুঁজিবাজারে পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম বা ‘কমোডিটি মার্কেট’ চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এই বাজার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছে। এখন কেবল বাজারসংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও একটি শক্তিশালী ‘ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার অপেক্ষা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সিএসই।
এর আগে রাজধানীর কাওরান বাজারে এনএলআই সিকিউরিটিজের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট: এ নিউ ফ্রন্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম সাইফুর রহমান মজুমদার এই অগ্রগতির কথা জানান। ক্যাপিটাল মার্কেট সিইও ফোরাম ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘কমোডিটি মার্কেটের জন্য টেকনোলজিক্যাল কাঠামো স্থাপনের পাশাপাশি আমরা আমাদের পুরো ট্রেডিং সিস্টেমও আপডেট করেছি। নতুন এই কাঠামোতে বর্তমান ইকুইটি মার্কেট, ডেরিভেটিভস মার্কেট এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভস মার্কেটকে যুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি কমোডিটি মার্কেট স্থাপনের জন্য তিনটি কাঠামো প্রয়োজন– রেগুলেটরি (নিয়ন্ত্রক), টেকনোলজিক্যাল (প্রযুক্তিগত) এবং ইকোসিস্টেম। সিএসই ইতোমধ্যে প্রথম দুটি স্তরের কাজ সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ইকোসিস্টেম তৈরির কাজ চলছে। সবার সহযোগিতা পেলে খুব দ্রুত এই বাজার চালু করা সম্ভব হবে।
সিএসইর এমডি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমাদের ইকুইটি মার্কেট এখনও পরিপূর্ণ নয়। বিশ্বে বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট লেনদেনের বড় অংশই হয় ডেরিভেটিভস মার্কেটে। সেই তুলনায় আমাদের বাজার অনেক পিছিয়ে। যত দ্রুত কমোডিটি মার্কেট চালু হবে, অর্থনীতিতে এর সুফল তত দ্রুত পাওয়া যাবে।’
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ক্যাপিটাল মার্কেট সিইও ফোরামের ডিরেক্টর মো. আলী বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বা প্রোডাক্ট ডাইভারসিফিকেশন নেই বললেই চলে। নতুন নতুন পণ্যের আগমনকে সফল করতে সিইও ফোরাম কাজ করে যাবে।
ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কমোডিটি মার্কেট চালু হলে অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, সিইও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস সিএসইর স্বচ্ছতা ও আধুনিক সেবার প্রশংসা করে বলেন, কমোডিটি মার্কেটের মাধ্যমে বাজার আরও প্রাণবন্ত হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর এজিএম ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রজেক্টের মেম্বার সেক্রেটারি ফয়সাল হুদা। এতে বিভিন্ন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এমএমএইচ/বিআরইউ