কমলো মুরগির দাম, গরু-মাছ চড়া দামেই

পবিত্র রমজান মাসের তৃতীয় দিনে আজ শনিবার বিভিন্ন ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। রমজান শুরুর দুই-তিন দিন আগে হঠাৎ করে মুরগির দামে উত্থান হয়েছিল, সেটি স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে, বিভিন্ন ধরনের মাছ এবং গরু ও খাসির দাম রমজানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রথম রমজানে যা ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর সোনালী মুরগির দামও দুদিনের ব্যবধানে কমে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় নেমেছে। প্রথম রমজানে সোনালী মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সোনালী মুরগির দামও দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা প্রোটিনের উৎস হিসেবে গরু, খাসি বা দামি মাছ তুলনামূলক কম খান। এর পরিবর্তে তাদের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। বাজারে দিন পনেরো আগে থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে থাকে। এর আগে প্রতি কেজি ব্রয়লারের দাম ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। কিন্তু শবে বরাতের সময় থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তে থাকে। প্রথম রমজানে এটি বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় উঠে যায়। পরে দুই দিনের ব্যবধানে আবারও অনেকটা স্বাভাবিক দামে ফিরেছে।
বিক্রেতারা জানান, প্রতিবছর রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বাড়ে। এ কারণে সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। এতে মুরগির দামও বাড়ে। ৫-৭টি রোজার পর দাম আবার আগের পর্যায়ে চলেও আসবে। এবার মরগির চাহিদা তুলনামূলক কম হওয়ায় দুই-তিন দিনের মধ্যেই দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে।

বাজারে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম কিছুটা কমে আসলেও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। রমজানের ১৫-২০ দিন আগে কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া গরুর মাংস এখনো একই দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি গরুর মাংসের দাম এখনো ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একমাস আগে যা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় পাওয়া যেত। আর খাসির মাংস আগের দামেই ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বাড়তি রয়েছে। রুই মাছ প্রতি কেজি ২৮০-৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৬০-২০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। চিংড়ি প্রতি কেজি ৬৫০-৭০০ টাকা। মাঝারি আকারের কই মাছ ২০০-২৫০, দেশি শিং ৬৫০-৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩৫০ এবং পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এমএমএইচ/এমএন