শেয়ারবাজারে সূচকে বড় উত্থান হলেও সাপ্তাহিক গড় লেনদেন কমেছে ৩১ শতাংশ

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকে ঊর্ধ্বমুখি প্রবণতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। সূচক বাড়লেও গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭১ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৯৮ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২১ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৫ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৭৪টির, কমেছে ৮৩টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক ও রবি আজিয়াটার শেয়ার।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুকে ঘিরে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় সপ্তাহের শুরুতে বাজারে কিছুটা সতর্কতা থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের শেয়ারে জোরালো ক্রয়চাপ সূচকের উত্থানে বড় ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল নীতিতে শিথিলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায়। ফলে গত সপ্তাহে সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৫০ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে তিনটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ দশমিক ৫৬ ও ব্যাংক খাতে ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে করপোরেট বন্ড খাতে। এছাড়া জীবন বিমা খাতে দশমিক ৮৫ ও সাধারণ বিমা খাতে দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৫৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৩৪৯ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৫৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৪৩০ পয়েন্ট।
এমএমএইচ/এসএম