‘ব্রয়লার এখন আর গরিবের নয়, ধনীদের হয়ে গেছে’

পবিত্র রমজান মাসের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। সপ্তাহখানেক পরেই ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ সামনে রেখে এরই মধ্যে মাছ, মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম আরও এক দফা বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার এখন ২২০ টাকা। গরুর মাংসও ৮০০ টাকার নিচে নামছে না; কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকায়। অন্যদিকে মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো মাছ। দফায় দফায় দাম বাড়ায় মাছ ও মাংস সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি ও রায়েরবাজার ঘুরে বাজারের এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে সোনালি জাতের মুরগির দাম। এই জাতের মুরগি কিনতে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ৩৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ টাকা। তবে গরুর মাংসের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে; বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
বিজ্ঞাপন
মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া দেশি টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি; আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।
রায়েরবাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা শরীফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রয়লার কিনতে এসে দেখি ২২০ টাকা কেজি। ব্রয়লার আর আমাদের কাতারে নেই; এটা এখন ধনীদের হয়ে গেছে। আর কিছু টাকা যোগ করলেই তো আধা কেজি গরুর মাংস নিতে পারি।’
একই বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ বলেন, ‘সামনে ঈদ, রোজাও শেষ পর্যায়ে। মাছের দাম প্রায় আগের মতোই আছে। মাছে বাজার ২০-৩০ টাকা ওঠানামা করে।’
বিজ্ঞাপন
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই মাছের বাজারে ভিড় করছেন। অনেককে আবার মুরগির দাম শুনেই দোকান থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
এমএসআই/বিআরইউ