আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে এবং শিগগিরই বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার আশা করছে চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি খাতের এসবিএসি ব্যাংক। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান বলেছেন, আস্থাই ব্যাংকিং খাতের মূল শক্তি। সেই আস্থা ধরে রাখতে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্পদের মানের ওপর যে চাপ রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক খবর পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১ এপ্রিল) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ১৪তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’-এ তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এস এম মঈনুল কবীর।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ভুঁইয়া এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকটি শুধু নিজেদের প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যেও কাজ করছে। বিশেষ করে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ‘ভ্যালু অ্যাডেড’ সেবাও চালু করা হয়েছে।
ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে জানানো হয়, আমানত ১৫ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং ঋণ ও অগ্রিম ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮২ শতাংশ, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমা ৮৭ শতাংশের নিচেই রয়েছে। ফলে ব্যাংকটি আগ্রাসী ঋণ বিতরণে যায়নি বলে দাবি করা হয়। একই সময়ে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ, যা প্রয়োজনীয় সীমার চেয়েও বেশি।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, সম্পদের মানের ওপর চাপ থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড পাবেন, যদিও সর্বশেষ বছরে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।
বিজ্ঞাপন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঈনুল কবীর বলেন, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং কোনো অর্থ পরিশোধে সমস্যা হয়নি। তারা ঝুঁকি বিবেচনা করে বিনিয়োগ করছেন এবং বড় ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বর্তমানে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের ৩৬ শতাংশই এসএমই খাতে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঈনুল কবীর বলেন, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং কোনো পরিশোধে সমস্যা হয়নি। তারা ঝুঁকি বিবেচনায় বিনিয়োগ করছেন এবং বড় ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বর্তমানে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের ৩৬ শতাংশই এসএমই খাতে।
তিনি আরও জানান, খেলাপি ঋণ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, আর ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল ‘সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড’ নামে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি বর্তমানে ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট ও ৭৭টি এটিএম বুথের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি ১০টি শাখায় ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ও অফশোর ব্যাংকিং সেবাও চালু রয়েছে।
এসআই/এমএসএ
