পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র সঙ্গে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে।
বিজ্ঞাপন
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২১ মে এই একীভূতকরণ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির জন্য বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল হাইকোর্ট ডিভিশন (কোম্পানি ম্যাটার নং ৩১৮/২০২৬) এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত নির্দেশনা প্রদান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওয়ালটন হাই-টেকের পরিচালনা পর্ষদের ৫০তম সভায় একীভূতকরণের পরবর্তী সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়।
গত শনিবার প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন গ্রহণের লক্ষ্যে ৪ মে ‘রেকর্ড ডেট’ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আগামী ২১ মে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইজিএম অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই একীভূতকরণ কার্যকর হবে শেয়ারহোল্ডার, ক্রেডিটর এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি ও হাইকোর্টের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে।
এই প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে, যখন উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ওয়ালটন হাই-টেকের ‘প্রোডাক্ট লাইন’ আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমানে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইলেকট্রিক বাইকসহ ১২৩ ধরনের হাই-টেক পণ্য ও এক্সেসরিজ উৎপাদন করছে। একীভূতকরণের ফলে এই বিশাল পোর্টফোলিও ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসায়িক পরিধিতে যুক্ত হবে, যা পরিচালন ব্যয় কমাতে এবং বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আর্থিক দিক থেকেও উভয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছর অনুযায়ী, ওয়ালটন ডিজি-টেকের নিট রেভিনিউ ছিল ৯১৫.৮০ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ৪.০৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, একই সময়ে ওয়ালটন হাই-টেকের নিট রেভিনিউ ছিল ৭,০৮২.২৫ কোটি টাকা এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ১,০৩৬.৬২ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ালটন হাই-টেক পুঁজিবাজারে একটি মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ওয়ালটন ডিজি-টেক প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম অর্জন করেছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ও উচ্চ-প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন খাতে একটি কৌশলগত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার সুফল দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এমএন
