বিজ্ঞাপন

দুর্বল ভিত্তির বাংলাদেশ অটোকারসে একমাসে বিনিয়োগের দ্বিগুণ মুনাফা!

অ+
অ-
দুর্বল ভিত্তির বাংলাদেশ অটোকারসে একমাসে বিনিয়োগের দ্বিগুণ মুনাফা!

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের ছোট মূলধনি কোম্পানি বাংলাদেশ অটোকারস লিমিটেড। এই দুর্বল আর্থিক কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করে দ্বিগুণ মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী। এক মাস আগে যদি কেউ এই শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে এখন তার মুনাফাসহ মূলধন বেড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ অটোকারসের শেয়ারদর ছিল ১২৬ টাকা ১০ পয়সা, সেখানে এক মাস পর ১৩ এপ্রিল তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৬ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ খুব অল্প সময়েই শেয়ারপ্রতি দাম বেড়েছে ১২০ টাকা ৪০ পয়সা। এই বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ বা ৯৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

আবার এই বিনিয়োগ যদি আরও একটু আগে হয়ে থাকে তাহলে মুনাফার পরিমাণ আরও আকর্ষণীয়। গত ১৩ নভেম্বর কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিলো ৯৯ টাকা ৪০ পয়সা। যদি কোনো বিনিয়োগকারী সে সময় কোম্পানিটির ১০ লাখ টাকার শেয়ার কিনে ধরে রাখেন, তাহলে বর্তমানে তার বাজারমূল্য ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৯ টাকা। অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা পাঁচ মাস বিনিয়োগ করে মুনাফা হয়েছে ১৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকার বেশি। এই মুনাফার হার ১৪৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এই মুনাফা অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো। 

সাম্প্রতিক সময়ে এত বড় পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হওয়া কোম্পানিটিতে ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ৫ পয়সা। এই আয়ের ভিত্তিতে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী কোম্পানিটির মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬৫, যা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, প্রায় অবাস্তব।

বিজ্ঞাপন

সহজভাবে বললে, কোম্পানির বর্তমান আয়ের ধারা অপরিবর্তিত থাকলে একজন বিনিয়োগকারীর তার বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পেতে সময় লাগবে দুই হাজার ৪৬৫ বছর বেশি। শেয়ারবাজারের বাস্তবতায় এমন হিসাব কার্যত সতর্ক সংকেত হিসেবেই বিবেচিত হয়। 

মাত্র ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটিতে এক কোটি টাকার বেশি রিজার্ভ ঘাটতি রয়েছে। কোম্পানিটি শেষ পাঁচ বছর লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেলেও মুনাফার হার ছিলে খুবই সামান্য। এই সময়ে প্রতি বছরে ৬ থেকে ২২ লাখ টাকার মধ্যে মুনাফা করেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানির সিংহভাগ শেয়ারের মালিকানাও সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। মোট শেয়ারের মধ্যে যার হার প্রায় ৭০ শতাংশ। কোম্পানির কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা আর্থিক দুর্বলতার কারণর অপসারণে গেলে এর দায় সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ঘারেই বেশি চাপবে।

বিজ্ঞাপন

এমএমএইচ/এমএন