অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের শেয়ারবাজারে ‘মার্জিন রুলস-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ওই রুলস বাস্তবায়নে ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে প্রস্তুতি নিতে ৬ মাসের সময় বেধে দেয় শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিজ্ঞাপন
কমিশনের বেধে দেওয়া ওই সময় আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো নতুন মার্জিন রুলস বাস্তবায়নে কতটা প্রস্তুত রয়েছে তা জানতে চেয়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) কাছে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি ডিবিএ সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নতুন মার্জিন রুলস বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্রোকারদের বর্তমান অগ্রগতি কতটুকু এবং নির্ধারিত শর্তগুলো পরিপালনে তারা কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন ‘মার্জিন রুলস-২০২৫’ যথাযথভাবে কার্যকর করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে আরও অতিরিক্ত তিন মাস সময়ের প্রয়োজন। ওই আবেদনের যৌক্তিকতা যাচাই করতেই ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রস্তুতির বিষয়টি জানতে উদ্যোগ নেয় বিএসইসি।
বিএসইসির পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, সময় বাড়ানোর আবেদনটি কমিশন গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করেছে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্রোকারদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সম্পর্কে কমিশন অবগত হতে চায়।
চিঠিতে কমিশন জানতে চেয়েছে, কতটি ব্রোকারেজ হাউজ ইতোমধ্যে কনজারভেটিভ পলিসি গ্রহণ করেছে, কতজন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে এবং কতজন ব্রোকার আরবিসিএ রুলস পুরোপুরি মেনে চলছে। এ ছাড়া আনরিয়েলাইজড লস বা নেগেটিভ ইক্যুইটির সমস্যা নেই এমন ব্রোকারের সংখ্যাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
৭ এপ্রিল ডিবিএর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, গত বছরের ১ নভেম্বর এই মার্জিন রুলসটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ছয় মাস পর অর্থাৎ আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এই নতুন বিধিমালায় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারের ঝুঁকি কমানোর জন্য বেশ কিছু আধুনিক ও কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
ডিবিএ নেতৃবৃন্দের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কারণে নির্ধারিত ছয় মাস সময় এই নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নতুন সফটওয়্যার বা সিস্টেম আপগ্রেডেশনের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। এমন বাস্তবতায় আগামী ৩০ এপ্রিলের পর আরও তিন মাস বাড়তি সময় চাওয়া হয় ডিবিএর পক্ষ থেকে।
এমএমএইচ/এমএসএ
