গভর্নর অপসারণে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, লেনদেনেও গতি

চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে যে কয়টি শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে, তার চেয়ে আড়াইগুণ বেশি সংখ্যকের বেড়েছে। এতে এক্সচেঞ্জটির প্রায় সবগুলো সূচক এক শতাংশ হারে বেড়েছে। আর লেনদেন দিনের ব্যবধানে প্রায় ৬৮ শতাংশ বেড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অপসারণ বাজারে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গ্রহণ করেছে বিনিয়োগকারী। পাশাপাশি নতুন গভর্নরের সুদহার কমানোর ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি উৎসাহ প্রদান করেছে। এছাড়া নতুন সরকার ও নতুন গভর্নরের সময়ে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের সিদ্ধান্তে পুনর্বিবেচনাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন প্রত্যাশায় শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে। তবে, কেউ কেউ মনে করেন এটি নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ওপর আস্থার ধারাবাহিক প্রতিফলন।
এ বিষয়ে মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আশেকুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘সাবেক গভর্নরের সময়ে শেয়ারবাজারের জন্য কিছু নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন গভর্নরের সময় সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া, নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার আগেই গণমাধ্যমে সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এটি শেয়ারবাজারে জন্য অনেক বড় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে। পাশাপাশি এনবিএফআই বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনাসহ বেশি কিছু পুরোনো বিষয় মূল্যায়ন হতে পারে। এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় শেয়াবাজারে বড় উত্থান হয়েছে।’
তবে ডিএসইর শেয়ারধারী পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন মনে করেন, আজকের উত্থানও নির্বাচন পরবর্তী সময়ের ধারাবাহিক উত্থানের অংশ। মার্কেট ধারাবাহিকভাবে বাড়তেছিল। আজকেও সেই ধারাবাহিকতায় বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ শেয়ার দাম বৃদ্ধির তালিকায় অংশ নেয়। এই ধারা শেষ পর্যন্ত অব্যহত ছিল। দিনশেষে ২৩৯টি শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ানোর তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হলেও দাম কমার তালিকায় রয়েছে ৯৩টি। আর ৫৯টির দাম দিনশেষে অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বৃদ্ধির তালিকা আড়াই গুণের বেশি বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬৯ পয়েন্টে উঠেছে।
এদিকে সবকটি মূল্যসূচকে বড় উত্থানের পাশাপাশি আজ ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। এদিন বাজারটিতে ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। গতকাল লেনদেন হয় ৫৬৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে ৩৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা লেনদেন বেড়েছে।
মো. আশেকুর রহমান মনে করেন, রমজান উপলক্ষ্যে স্বল্প সময়ের ট্রেডিংয়ে এটি বড় লেনদেন। অন্যান্য সময়ে হলে আজকের লেনদেন আরও বাড়তে পারতো।
আজ অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫৯৭ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৩টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়।
এমএমএইচ/এসএম