মার্জিন রুলস ২০২৫ বাস্তবায়নের সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কাছে আবেদন করেছে স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
বিজ্ঞাপন
পুঁজিবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় গত ৭ এপ্রিল সংস্থার চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বরাবর একটি চিঠিতে এ আবেদন জানায় ডিবিএ।
সংগঠনটি জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিধান কার্যকর করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
গত ৭ এপ্রিল ডিবিএ থেকে পাঠানো চিঠিটি একদিন পর ৮ এপ্রিল বিএসইসি কর্তৃক গ্রহণ করা হয়। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে এডিবিএ।
সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মার্জিন রুলস ২০২৫, যা ০১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা এবং সামগ্রিক বাজার স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান প্রবর্তন করেছে। তবে ছয় মাসের (১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) নির্ধারিত সময়সীমা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়।
বোর্ড অনুমোদিত কনজারভেটিভ মার্জিন ঋণ পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। অভ্যন্তরীণ পরামর্শ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, বোর্ড অনুমোদন এবং অপারেশনাল সিস্টেমে সংযোজন প্রক্রিয়া এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে চলমান রয়েছে। দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সীমাবদ্ধতাও এ প্রক্রিয়াকে ধীর করেছে।
বিজ্ঞাপন
আরবিসিএ ২০১৯-এর সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সিস্টেম উন্নয়ন, জনবল প্রশিক্ষণ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়ন করলে অপারেশনাল ত্রুটি বা মার্জিন সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বিদ্যমান মার্জিন ঋণ গ্রাহকদের নন-মার্জিনেবল সিকিউরিটিজ বিক্রয় সমন্বয় করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিপুল সংখ্যক হিসাবধারীর কাছে এসব সিকিউরিটিজ রয়েছে, ফলে স্বল্প সময়ে বাস্তবায়ন করলে বাধ্যতামূলক বিক্রয়, বাজারে অস্থিরতা, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি এবং তারল্যের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এছাড়া সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের কারণে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এ নিয়ম বাস্তবায়নকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়িয়ে মোট ৯ মাস (৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত) করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় সিস্টেম ও নীতিমালা উন্নয়ন সম্পন্ন করে বিদ্যমান গ্রাহকদের জন্য একটি মসৃণ ও বিঘ্নহীন রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
এমএমএইচ/এমএসএ
