প্রক্রিয়ার জটিলতায় আর শর্তের বেড়াজালে ঢাবির স্মার্টফোন ঋণ

Dhaka Post Desk

আমজাদ হোসেন হৃদয়, ঢাবি

০৯ জুন ২০২১, ০৯:২৫


প্রক্রিয়ার জটিলতায় আর শর্তের বেড়াজালে ঢাবির স্মার্টফোন ঋণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অধ্যয়নরত যে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন নেই, তাদের স্মার্টফোন কেনার জন্য বিনা সুদে আট হাজার টাকা ঋণ দেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঋণ পেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আগামী ১৫ জুনের মধ্যে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালকের দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে স্মার্টফোন কেনার জন্য ঋণের আবেদন করা শিক্ষার্থীদের তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে ঋণের আবেদন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও শর্তাদি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জমাদান প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। যদি বিভাগ/ইনস্টিটিউটে সশরীরে এসে ঋণের ফরম জমা দিতে হয়, তাহলে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে যাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, তাদের ভোগান্তি বেশি হবে। এসব ছাড়াও নানা জটিল প্রক্রিয়ার কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন স্মার্টফোন কেনার ঋণ পেতে ইচ্ছুকরা।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে। এতদিন পর কেন ঋণের আবেদন চাইছে প্রশাসন? ঋণের আট হাজার টাকা দিয়ে অনলাইন ক্লাস/অনলাইন পরীক্ষার উপযোগী স্মার্টফোন পাওয়া যাবে কি? শুধু দায় সারতে এতদিন পর এই ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে?

সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ফরহাদ আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখে হতাশ হয়েছি। দেখলাম আমার বাসা থেকে ঢাকায় যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়া বাবদ যত টাকা খরচ হবে, সেটার আর ঋণের টাকার পরিমাণ কাছাকাছি। তবে ঋণ নেওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি যদি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, সেটি আমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ঋণের জন্য আবেদন করার যে প্রক্রিয়া আছে সেটি খুবই ঝামেলাপূর্ণ মনে হচ্ছে। নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা, আবেদন করা, আবার সশরীরে এসে ফরম জমা দেওয়া এগুলো ঝামেলাপূর্ণ কাজ। আর ঋণের আট হাজার টাকা ভালো ফোন কেনার মতো যথেষ্ট নয়। এ ঋণ খুব একটা কার্যকরী হবে না। আমি ভাবছি, আবেদন করব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত ভোগান্তি নিয়ে এই ঋণের টাকা আমার প্রয়োজন নেই। টাকাগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৈজ্ঞানিকভাবে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করুক।

বিষয়টি নিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ঢাকা পোস্টকে বলেন, নানা সমালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ভালো, প্রশংসনীয়। কিন্তু এর শর্ত এবং সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মানুষ হাসাহাসি করবে। মানসম্মত একটি স্মার্টফোন কিনতে হলে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা লাগে। আট হাজার টাকায় যে মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, সেটি ভালো কাজ করবে না। তারপর আবার সেখানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ফরম পূরণ করা, সেটি আবার জমা দেওয়া। এসব কারণে আমার মনে হয় ১০ ভাগ শিক্ষার্থীও এই ঋণ নেন কি না সন্দেহ আছে।

ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, এ ঋণ আরও আগে দেওয়া উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক্ষেত্রে খুবই ধীরগতিতে কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকে হোক কিংবা ইউজিসি থেকে সরাসরি অনুদান দিয়ে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবস্থা করার আহ্বান আমরা জানিয়েছিলাম। যদি শিক্ষার্থীদের সশরীরে এসে, ঢাকায় অবস্থান করে আবেদন করতে হয়, তাহলে যে প্রত্যাশা নিয়ে করা হচ্ছে, তা পূরণ হবে না। এক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিক, ন্যায়সঙ্গত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্প দাঁড় করাতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত হিসাব পরিচালক মো. ইলিয়াছ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিভাগ/ইনিস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন করতে হবে। এখন যে অবস্থা, তাতে মনে হয় সশরীরে এসেই করে করতে হবে। কিছু করার নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, শর্তগুলো আরেকটু সহজ হলে ভালো হতো। এজন্য তিনি ইউজিসির সঙ্গে কথা বলতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।

তবে সশরীরে ফরম জমা দেওয়ার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, না এটা অনলাইনে করা যাবে। অনলাইনে ফরম পূরণ করলেই হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে ফরম জমা দেওয়ার বিষয়টা আরও স্পষ্ট করা উচিত ছিল। আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে যেকোনো শাখায়।

এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ হাজার ৫০১ অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে বিনা সুদে আট হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউজিসি।  ইউজিসির তালিকায় সবচেয়ে বেশি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আট হাজার ৫৫৬ শিক্ষার্থী ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন।

এইচআর/আরএইচ

Link copied