নটর ডেম বিজ্ঞান ক্লাবের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

‘সৃষ্টির সৌরভে সমুজ্জ্বল সত্তর’–এই স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গৌরবময় ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে রাজধানীর নটর ডেম বিজ্ঞান ক্লাব। আজ (শুক্রবার) কলেজ প্রাঙ্গণে বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় রূপ নেয়।
দেশের অন্যতম প্রাচীন এই বিজ্ঞান ক্লাবের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করার এই ক্ষণে বিভিন্ন কলেজ ও ক্লাবের পক্ষ থেকেও জানানো হয় উষ্ণ অভিনন্দন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখা হয়। সকালে আলোচনা সভা ও ক্লাবের সাবেক নেতাদের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে আয়োজনের সূচনা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নটর ডেম কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আর্চবিশপ বিজয় এন ডি' ক্রুজ ও এম আই।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, ক্লাবের মডারেটর ড. ভিনসেন্ট তিতাস রোজারিও, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. দেবজ্যোতি কর্মকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আর্চবিশপ বিজয় এন ডি' ক্রুজ বলেন, ‘সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সকাল থেকে আমার খুব আনন্দ লাগছিল। কারণ ফাদার টিম এবং ফাদার বেঞ্জামিনকে ঘিরে আমি দুজনকে কিছু দেখেছি। তাদের কথা শুনেছি, ক্লাস পেয়েছি। ফাদার টিম একজন স্বীকৃত বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে আসেন। আর তার ১০০ বছর আগে এই হোলি ক্রস সম্প্রদায়ের ফাদার, ব্রাদার ও সিস্টারগণ এই দেশে আসেন। তাই তিনি অনেক আনন্দ নিয়ে এ দেশে এসেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ফাদার টিম নটর ডেম কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭০ সালের বড় সাইক্লোনের পর মনপুরায় গিয়ে মানুষের দুর্দশা দেখে তিনি বিচলিত হন। এরপর তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব ছেড়ে নিজেকে মানবাধিকার ও আর্তমানবতার সেবায় উৎসর্গ করেন। ফাদার বেঞ্জামিনকে স্মরণ করে তিনি শিক্ষার্থীদের সৎপথে জীবনযাপন করার ও ভালো মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান।

ক্লাবের মডারেটর ড. ভিনসেন্ট তিতাস রোজারিও বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে চলছি। আমাদের ক্লাব অনেক আগে তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি সবাই সমান এবং সমানভাবে সহজ কাজ করছি। অতিথিদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, ক্লাবের এই অগ্রযাত্রা আগামী ২০০ বছরও যেন অব্যাহত থাকে এবং এটি যেন সমাজ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ক্লাবের সদস্যরা পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করেন। আধুনিক বিজ্ঞানচিন্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মিশেলে তৈরি এসব প্রকল্প দর্শনার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে। সদস্যদের সৃজনশীলতা ও গবেষণামনস্কতা এসব প্রকল্পের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
এমএসআই/বিআরইউ