বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোসহ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ১৩ দাবি শিক্ষকদের

বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি, শিক্ষক–কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, পৃথক বেতনস্কেল চালুসহ ১৩ দফা দাবি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারক দিয়েছে শিক্ষক–কর্মচারী ঐক্যজোট।
সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বর্তমান ভাতা ও বেতন কাঠামোতে শিক্ষক–কর্মচারীদের পক্ষে সম্মানজনক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসব দাবি জানান৷
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার এবং দ্রুত তহবিল বরাদ্দ দিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা পরিশোধের করতে হবে। একই সঙ্গে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন কমিটি দ্রুত গঠন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বেতন–ভাতা প্রসঙ্গে স্মারকে বলা হয়, বর্তমানে শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা, যা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে অপ্রতুল। তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক বেতনস্কেল চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বিনোদন ভাতা সরকারি নিয়মে প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, নিবন্ধিত যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দক্ষ ও নিরপেক্ষ শিক্ষা প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংগঠনটি বলেছে, গুণগত মানোন্নয়নের স্বার্থে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহাল ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া স্বীকৃতপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্ত করা, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে এইচএসসি (বিএম) কোর্স চালু, বেসরকারি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, ল্যাব স্থাপন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার এবং দেশব্যাপী কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় নিবন্ধনের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানে শিক্ষামন্ত্রীর সক্রিয় উদ্যোগ প্রত্যাশা করে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট বলেছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমে সরকার চাইলে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আরএইচটি/এসএম