দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের জন্য সুসংবাদ, আবেদনে মিলবে আর্থিক অনুদান

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন চিকিৎসা অনুদান প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। ষষ্ঠ থেকে শুরু করে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ-এপ্রিল প্রান্তের জন্য এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ‘এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুযায়ী এই চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ৩০ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত লিংকের (https://www.eservice.pmeat.gov.bd/medical) মাধ্যমে ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে প্রবেশ করে এই আবেদন করা যাবে।
আবেদনের শর্তাবলিতে জানানো হয়েছে, আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে অবশ্যই মেধাবী হতে হবে। পূর্ববর্তী শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫-এর ক্ষেত্রে ৩.৫০ এবং স্নাতক পর্যায়ে জিপিএ ৪-এর ক্ষেত্রে ৩.০০ প্রাপ্তির প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে। এছাড়া সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যাদের অভিভাবকের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার কম, তারা এই সুযোগ পাবেন।
দুর্ঘটনার প্রমাণ হিসেবে জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেওয়া ‘গুরুতর আহত’ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র আবশ্যিকভাবে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল দুর্ঘটনাজনিত কারণেই এই অনুদান প্রদান করা হবে এবং দুর্ঘটনার সময়কাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যে হতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র অনলাইনে আবেদনের সময় শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র আপলোড করতে হবে। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনভিত্তিক, তাই আবেদনের কোনো হার্ড কপি সরাসরি ট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
চিকিৎসা অনুদানের অর্থ সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বা তার বাবা-মায়ের অনলাইন ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ নম্বর এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিতে হবে। প্রামাণ্য দলিল হিসেবে চেক বইয়ের পাতা অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট আপলোড করতে হবে। তবে শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল এমন অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ভুল বা অসম্পূর্ণ ব্যাংক হিসাবের তথ্যের কারণে অর্থ পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ট্রাস্ট পুনরায় তা পাঠাবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদনের সময় তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম খুঁজে না পেলে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে ইআইআইএন ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ইমেইল বা ডাকযোগে আবেদনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরএইচটি/এমএসএ