সারাদেশের শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরিতে ১২ বছর ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচিতে ৩,৬৭,৫২০ বই দিয়েছে বিকাশ। আলোকিত মানুষ তৈরির যাত্রার ধারাবাহিকতায় বুধবার (১ এপ্রিল) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের হাতে এবছর আরো ৪০ হাজার বই হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বিকাশ-এর চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.) বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে বইগুলো হস্তান্তর করেন।
২০১৪ সাল থেকে দেশজুড়ে পরিচালিত বইপড়া কর্মসূচিতে বিকাশ এর দেয়া বইগুলো প্রায় ৩০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে, যা থেকে ৩৪ লাখের বেশি পাঠক উপকৃত হয়েছে। এবছর যুক্ত হওয়া বইগুলো দেশের ৩৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হবে যার মধ্যে রয়েছে নতুন ৮০টি স্কুল।
গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বইপড়া কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পাঠ্যক্রমের বাইরে দেশি ও বিদেশি সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের মনন গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বইপড়া কার্যক্রমকে আরও জনপ্রিয় করতে সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য সমসাময়িক বিষয়ের উপর কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীদেরকে পুরস্কার হিসেবে বই ও সনদপত্র দেয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
আলোকিত জাতি গঠনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে আরও প্রসারিত ও কার্যকরী করতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই বই পড়া কর্মসূচির সাথে যুক্ত আছে বিকাশ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ভালো পরিবেশ পারে আলোকিত মানুষ তৈরি করতে। জ্ঞান চর্চা, পাঠাভ্যাস তৈরি ও আলোকিত মানুষ গড়ার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সাথে যুক্ত রয়েছে বিকাশ। এই ধরনের উদ্যোগের জন্য দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের মৈত্রী অনন্য যা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।
বিকাশ-এর চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম (অব.) বলেন, বিকশিত মানুষই বিকশিত দেশ গড়বে। এই বিকশিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো একাডেমিক পড়াশুনার বাইরে আরো বই পড়া এবং জ্ঞান অর্জন করা। টেকসই সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষিত ও মননশীল প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘসময় ধরে বিকাশ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই বইপড়া কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বই হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান ও যুগ্ম-পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন; বিকাশ-এর রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট-এর হেড ও ইভিপি হুমায়ুন কবির এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট সায়মা আহসান সহ অনেকে।
