বিজ্ঞাপন

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান

তদবির নয়, মেধার ভিত্তিতেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ

অ+
অ-
তদবির নয়, মেধার ভিত্তিতেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারছে। এখন থেকে আর কোনো তদবিরের কাজ হবে না। মেধার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ দেওয়া হবে। পরীক্ষায় যারা ভালো করবেন তারাই প্রতিষ্ঠান প্রধান হবেন। 

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনটিআরসিএর সম্মেলন কক্ষে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাকে সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষকদের নিয়ে দেশে অনেক আলোচনা থাকলেও তাদের যথাযথ মূল্যায়ন সবসময় সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসনিক প্রধান বা সহকারী প্রধান হওয়ার পথ সহজ করে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষক সমাজকে তদবির, স্বজনপ্রীতি ও অর্থনির্ভর নিয়োগপ্রক্রিয়ার বাইরে এনে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে অনেকেই ধারণা করতেন সুপারিশ বা অর্থ ছাড়া চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এখন এনটিআরসিএ সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। দেশের যে প্রান্তেই কেউ থাকুক, তার মেধা থাকলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা সহকারী প্রধান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বদলি কার্যক্রম চালুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে একজন শিক্ষক বা প্রধান একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন স্থির থাকতেন। এখন বদলির সুযোগ থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গতিশীলতা আসবে। এতে প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। একজন প্রধান চাইলে ভালো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগও পাবেন।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক যদি এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত না হন, তবে তার যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন। এনটিআরসিএর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা, একাডেমিক যোগ্যতা ও ভাইভা বোর্ডের মাধ্যমে মেধা যাচাই করা হয় এবং পরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানো হয়।

এমপিওভুক্তির দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সহজ করার জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে যোগদানের তারিখ থেকেই বেতন কার্যকর করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসংক্রান্ত জটিলতা আরও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চেয়ারম্যান বলেন, এনটিআরসিএ এখন শিক্ষকদের জন্য একটি আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। এই বার্তাটি গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমি ছড়িয়ে দিতে চাই৷ যাতে করে আরও বেশি প্রার্থী আবেদন করতে উৎসাহিত হন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

উল্লেখ্য, দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় অংশ নিতে ৫৩ হাজার ৬৯টি আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩৫১ জন এবং মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭১৮ জন।

আরএইচটি/জেডএস

বিজ্ঞাপন