প্রতি ঈদেই ফরিদ মামার বাসায় যেতাম

Dhaka Post Desk

বিনোদন ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২১, ০১:০৯ পিএম


প্রতি ঈদেই ফরিদ মামার বাসায় যেতাম

ফরিদ আহমেদের সঙ্গে কুমার বিশ্বজিৎ

টানা ২০ দিন করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন দেশের নন্দিত সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ। তাকে স্মরণ করেছেন তার সুর করা প্রথম গানটিতে কণ্ঠ দেওয়া দেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ

ফরিদ আহমেদ আমার দীর্ঘদিনের সহযাত্রী। তার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা কতটা গভীর বলে বোঝাতে পারব না। ১৯৮২ সালের দিকে ফরিদ মামার সঙ্গে আমার পরিচয়। উনি তখন সেশন মিউজিশিয়ান। আলাউদ্দিন অর্কেস্টা অথবা ঢাকা অর্কেস্ট্রায় বাজাতেন। আমার গাওয়া বিভিন্ন ফিল্মের গানেও গিটার বাজাতেন। সেখান থেকেই আমাদের সম্পর্কটা গাঢ় হয়।

বাজাতে বাজাতে এক সময় সুর করার প্রতিও মনোনিবেশ করেন তিনি। আমিও তাকে সুর করার বিষয়ে উৎসাহ দিতে থাকি। ঘটনাক্রমে তার সুর করা প্রথম গানেই কণ্ঠ দিই আমি। লিটন অধিকারী রিন্টুর লেখা সেই গানটি হলো ‘তুমি ছাড়া আমি যেন মরুভূমি’। গানটির জন্য দুজনেই মানুষের অনেক প্রশংসা পাই।

এরপর ফরিদ মামা আমার জন্য সুর করেন ‘মনেরই রাগ অনুরাগ ভুলে যাই দেখলে তোমায়’, ‘আমি তোরই সাথে ভাসতে পারি মরণ খেয়ায় একসাথে’ গানগুলো। এগুলোও মানুষ বেশ পছন্দ করেছে। ফরিদ মামার সুরে খুব বেশি গান করিনি। তবে যতগুলো করেছি সবগুলোই মাইলস্টোন। সর্বশেষ রবীন্দ্রনাথের ‘আমার বেলা যে’ গেয়েছিলাম তার সংগীতায়োজনে।

Dhaka Post
ফরিদ আহমেদের সুর করা প্রথম গানটিতেই কণ্ঠ দিয়েছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ

একটা সময় এমন কোনো দিন ছিল না যেদিন আমাদের দেখা হতো না। ওনার বিয়েতে যাওয়া থেকে শুরু করে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলাম। প্রতি ঈদে কিশোর দা (এন্ড্রু কিশোর), রিন্টু ভাই (লিটন অধিকারী রিন্টু), আমি, মিলুর (খালিদ হাসান মিলু) বাসায় যেতাম আগে, এরপর যেতাম ফরিদ মামার বাসায়। তারপর হানিফ সংকেতের বাসায়। এটা একদম বাঁধাই ছিল আমাদের। আরও অসংখ্য স্মৃতি আছে আমাদের।

করোনার মধ্যেও মিউজিশিয়ানদের নিয়ে উনার চিন্তা-ভাবনা, সরকারের কাছ থেকে কীভাবে সহায়তা পাওয়া যায়, মিউজিকে আমাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান কীভাবে করা যায়, বিভিন্ন সংগঠনকে এক করে কীভাবে সামনে এগুনো যায় এসব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত তার খোঁজ-খবর নিচ্ছিলাম। মাঝে কিছুটা উন্নতি হওয়ায় খুব আশান্বিত হয়েছিলাম। অবস্থায় খারাপের দিকে যাওয়ার পর মনটা ভেঙে যায়। আর আজ তো শেষ আশাটুকুও নিভে গেলে। প্রিয় ফরিদ মামা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আর কখনো তার সুরে গাইতে পারব না! আর কখনো দেখা হবে না আমাদের! দেশ হারাল একজন অসাধারণ মিউজিশিয়ানকে।

আরআইজে

Link copied