মা দেখতেন আমি ভয়ে কাঁপছি : হেমা মালিনী

মুম্বাইয়ের রূপালি জগতে নিজেকে ‘ড্রিম গার্ল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হেমা মালিনীর পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। চেন্নাইয়ের সচ্ছল জীবন ছেড়ে মায়ানগরীতে এসে একদিকে যেমন তাকে করতে হয়েছে কঠোর সংগ্রাম, অন্যদিকে লড়তে হয়েছে এক অদৃশ্য আতঙ্কের সঙ্গে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে এক অদ্ভুতুড়ে ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী, যা আজও তার স্মৃতিতে অমলিন।
নিজের আত্মজীবনী ‘হেমা মালিনী: বিয়ন্ড দ্য ড্রিম গার্ল’-এ সেই শিহরণ জাগানিয়া অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি। হেমা জানান, তখনো মেগাস্টার ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় একটি ছোট ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। আর সেখানেই তার সঙ্গে নিয়মিত ঘটতে শুরু করে অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা।
সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে হেমা বলেন, ‘প্রতি রাতে আমার মনে হতো অন্ধকারের মাঝে কেউ একজন আমার গলা টিপে ধরছে। দম বন্ধ হয়ে আসার মতো এক অসহ্য যন্ত্রণা হতো। শুধু একবার বা দুবার নয়, দিনের পর দিন এই ঘটনা ঘটতে থাকে আমার সঙ্গে।’
অভিনেত্রী আরও জানান, সেই সময় তার মা-ও একই রুমে থাকতেন। তার কথায়, ‘মা আমার সঙ্গেই শুতেন। তিনি দেখতেন আমি কতটা ভয়ে রাত কাটাতাম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মা দেখতেন আমি ভয়ে কাঁপছি। ক্রমাগত একই ঘটনা ঘটতে থাকায় আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি।’
সেই রহস্যময় ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কারণেই শেষ পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন হেমা। এরপরই শুরু করেন নিজের একটি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ। পরবর্তীতে জুহুতে সমুদ্রমুখী একটি বাগানঘেরা বাংলো কেনেন তিনি। অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ের পর সেই বাংলোতেই থিতু হন অভিনেত্রী এবং জীবনের অধিকাংশ সময় সেখানেই কাটিয়েছেন।
এমআইকে