সুনীল কর্মকারের প্রয়াণ সংস্কৃতি অঙ্গনের এক অপূরণীয় ক্ষতি : ফারুকী

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী ও সংগীত সাধক সুনীল কর্মকারের প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক শোকবার্তায় এই গুণী শিল্পীর প্রয়াণকে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সুনীল কর্মকার। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এবং অসংখ্য ভক্ত-গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার শোকবার্তায় বাংলাদেশের দর্শনের ঐতিহ্য ও গানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বলেন, বাংলাদেশের দর্শন এবং শিল্পচর্চা শত শত বছর ধরে হাতে হাত রেখে চলেছে। আমাদের এই ভূখণ্ডের মানুষ তার জাগতিক আনন্দ-বেদনার বোধের পাশাপাশি দার্শনিক ভাবনা ও সমাজচিন্তার প্রকাশ করেছে গান রচনার মধ্য দিয়ে। এই দেশের চিন্তার ঐতিহ্য তাই কোনো দর্শনের বইয়ে না খুঁজে খুঁজতে হয় আমাদের গানে। লালন, হাসন, জালাল খাঁ, শাহ করিমসহ আরও অগণিত ভাবুক বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।
প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয় তুলে ধরে ফারুকী আরও বলেন, সুনীল কর্মকার জালাল খাঁ ঘরানার একজন বিশিষ্ট সংগীত ও ভাবসাধক। তার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয় আজ থেকে বহু বছর আগে। তখনই তার কণ্ঠে জালাল খাঁর গান আমাকে অনুপ্রাণিত করে। গান গাওয়ার পাশাপাশি বেহালা, দোতরাসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্রে তিনি পারদর্শী ছিলেন।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা আরও বলেন, গুণী এই শিল্পীর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরপরই সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তার পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়।
শোকবার্তায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন,, আজ ঘুম ভাঙার পরই পাওয়া এই শোকসংবাদ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বেদনার্ত করেছে। সামষ্টিকভাবে এটি আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। শৈশব থেকেই গানের প্রতি ছিল তার প্রবল টান। বিখ্যাত বাউল সাধক ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সংগীতে আত্মনিয়োগ করেন।
সুনীল কর্মকার শুধু একজন সুকণ্ঠী গায়কই ছিলেন না, বরং যন্ত্রসংগীতেও ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম বাজানোয় তার ছিল অসাধারণ পারদর্শিতা। জালাল খাঁর অসংখ্য কালজয়ী গানে সুরারোপের পাশাপাশি তিনি নিজে রচনা করেছেন প্রায় দুই শতাধিক গান, যা লোকসংগীতের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
ডিএ