ওপার বাংলার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির আকস্মিক প্রয়াণে দুই বাংলার শোবিজ অঙ্গনেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 'চিরদিনই তুমি যে আমার' খ্যাত এই অভিনেতার এমন বিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। ওপার বাংলার পাশাপাশি এপার বাংলার তারকারাও সামাজিক মাধ্যমে প্রিয় অভিনেতাকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করছেন।
বিজ্ঞাপন
রাহুল অরুণোদয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে জয়া আহসান একটি দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। জয়া লিখেছেন, রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি… এক অপরিসীম মগ্ন মানুষ, চির নিদ্রায় এক অনন্য শিল্পী…এ যেন ভাবতেই পারা যায় না…. তার সঙ্গে আলাপ অনেক আগেই, ঝরা পালক- এর সময় প্রথম এবং শেষ কাজ করাএক সঙ্গে। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন অরুণোদয়; চেহারায় হয়তো মিল নেই, তবু যখন তার সঙ্গে অভিনয় করলাম, মনে হলো জীবনানন্দের কবিতার এক নির্বিঘ্ন স্রোত তার অন্তরে প্রবাহিত; সেই পরিচয় থেকেই শিল্পী হিসেবে তার গভীরতা আমায় মুগ্ধ করেছে; অভিনয়ে, কথায়, আদর্শে এবং লেখনীতে যে অরুণোদয় নির্মেদ, মায়াময়, স্পষ্ট এবং চিরন্তন; আজ সেই অরুণোদয়কে মনে করে যেতে চাই প্রতি মুহূর্ত।
জয়া তার পোস্টের শেষে রাহুলের স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিকূল সময়ে তাকে ও তাদের সন্তান সহজকে আগলে রাখার সাহস জুগিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
জয়া আহসানের এই শোকবার্তায় আবেগঘন মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। রাহুলের অকাল প্রয়াণে নিজের মর্মবেদনা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, এটি খুবই দুঃখজনক। একইসঙ্গে তিনি রাহুলের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। জয়ার পোস্টে শাহনাজ খুশির এই মন্তব্য দুই বাংলার শিল্পীদের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও রাহুলের প্রতি তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
এদিকে ওপার বাংলার এই অভিনেতার প্রয়াণে শোকাতুর অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক স্টোরিতে রাহুলের একটি শৈল্পিক ছবি শেয়ার করে চঞ্চল লিখেছেন, তোমার দেওয়া আনন্দ আর রেখে যাওয়া ভালোবাসার মাঝেই তোমার স্মৃতি চিরকাল অম্লান থাকবে। রাহুলের হাস্যোজ্জ্বল স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে চঞ্চল আরও উল্লেখ করেন, তারা রাহুলকে ভীষণভাবে মিস করবেন।
চিত্রনায়িকা পূজা চেরীও রাহুলের এমন আকস্মিক চলে যাওয়া বিশ্বাস করতে পারছেন না। ফেসবুকে রাহুলের একটি সাদাকালো ছবি পোস্ট করে তিনি তার বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ক্যাপশনে পূজা লিখেছেন, ‘আনবিলিভেবল’ বা অবিশ্বাস্য।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, গত রোববার দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং চলাকালে সমুদ্রের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন রাহুল। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাহুলের শরীরে পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া গেছে। তার ফুসফুস ও খাদ্যনালিতে প্রচুর পরিমাণে বালু ও নোনাপানি জমা ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি অন্তত এক ঘণ্টার বেশি সময় পানির নিচে ছিলেন। ফুসফুস অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়ায় অক্সিজেন আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ডিএ
