ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'প্রিন্স' নিয়ে শুরু থেকেই ছিল নানা আলোচনা-সমালোচনা। ভিএফএক্স, কালার গ্রেডিং আর টেকনিক্যাল কিছু ত্রুটি নিয়ে দর্শকমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান পাশে পেয়েছেন তার অগণিত ভক্তকে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেমাটির সীমাবদ্ধতা এবং পর্দার পেছনের নানা প্রতিকূলতা নিয়ে অকপট কথা বলেছেন এই মহাতারকা।
বিজ্ঞাপন
রাত ১২টার মাঝেও ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখে আবেগাপ্লুত শাকিব বলেন, ‘আমি খুব এক্সাইটেড ছিলাম। ওরে মাই গড! কি সুন্দর জায়গা! আমি তো খুব এক্সাইটেড ছিলাম যে রাত বাজে ১২টা, আপনারা আমাকে এত ভালোবাসেন।’
সিনেমাটির কারিগরি ত্রুটির জন্য টিমের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে শাকিব খান বলেন, ‘আজকে যে রাত ১২টার সময় আমি আমার টিমের পক্ষ থেকে, আমার সবার পক্ষ থেকে আমি সরি, আমরা চেষ্টা করেছি। পাঁচ দিন মাল্টিপ্লেক্সে ছিলাম না, পাঁচ দিন পরে এসে ২২টা শো পেয়েছি ভাই। দুইটা শো পাওয়ার কথা ছিল। এত ব্যাড রিভিউর পরে এটাই হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা।’
বড় বড় সিনেমার সফলতার পেছনের গল্প টেনে তিনি আরও বলেন, ‘বড় বড় ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় যাদের সিনেমা নাকি ব্যাকআপ থাকতো, যার জন্য যাদের সিনেমা কিছুই হতো না, সিনেমা অনেক বাজে সিনেমা তাদের সিনেমা সুপারহিট হয়ে যেত শুধুমাত্র ওই মহাতারকাটাকে দেখার জন্য। আমি ওই গল্প শুনে এসেছি। আর এবার আমি সেটা দেখলাম যে আসলে রাত বাজে ১২টা, আপনারা আমাকে এত ভালোবাসেন।’
বিজ্ঞাপন
সিনেমাটি দর্শকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি মেটাতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে শাকিব বলেন, ‘আমি এটি মানছি যে প্রিন্স টিম পরিপূর্ণ ছবি আপনাদেরকে দিতে পারেনি, মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। বাট বিশ্বাস করেন যে এর কমতি ছিল না। প্রথমেই আমরা এসেছি পারমিশন জটিলতায়, সেখানে শুটিংয়ের যে শিডিউল ছিল সেটাই চলে গেছে। তারপরে এসে সবার এত অক্লান্ত পরিশ্রম ছিল যে সিনেমাটা কতটা পারফেক্টলি দেয়া যায়।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে শাকিব জানান, ‘প্রিন্স আমি যখন গল্প শুনেছি তখনই আমার মনে হয়েছিল যে এটা আমার জীবনে এই পর্যন্ত করা সবচেয়ে বড় সিনেমা হবে। হয়তো সময়স্বল্পতার কারণে সেটা হয়নি। আমি নেক্সট সিনেমাগুলোতে নিশ্চয়ই এ বিষয়টা অনেক খেয়াল রাখব। প্ল্যান এ তো ছিল আমাদের ইন্ডিয়াতে পুরো লোকেশন দেখা, প্ল্যান বি-ও যেন রাখে। প্ল্যান এ ক্যান্সেল হয়ে গেল যেন আমরা প্ল্যান বি দিয়েও করতে পারি।’
বিজ্ঞাপন
প্রযোজকের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাস্ট মি, সবকিছুই ডিজাস্টার হয়েছে শুধু সময়ের অভাবে। আমরা কিন্তু প্রায় তিন মাস শুধু পারমিশনের কারণে আটকে ছিলাম। পুরো ছবিটা ইন্ডিয়া একটা জায়গায় সেট করা ছিল, সেই সেটটাকে ভেঙে আবার করা আসলে সবার জন্যই কঠিন ছিল। আমরা যেটা দেখাতে চেয়েছিলাম সেটা দেখাতে পারিনি।’
এমআইকে
