কৃষিতে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ বিপ্লব, মাঠজুড়ে এখন প্রযুক্তির হাসি

একসময় দামি যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল দেশের কৃষি। যান্ত্রিক চাষাবাদ মানেই ছিল উচ্চ খরচ, সীমিত সুযোগ আর সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে থাকা প্রযুক্তি। সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ কৃষিযন্ত্রেই ধীরে ধীরে ঘটছে কৃষিবিপ্লব। দেশীয় উদ্ভাবনে তৈরি আধুনিক যন্ত্র কৃষকের আয় বাড়াচ্ছে, কমাচ্ছে শ্রমনির্ভরতা, আর মাঠে ফিরিয়ে আনছে স্বস্তি ও হাসি।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে গত কয়েক বছর ধরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) হাত ধরে ঘটেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মানুষের ইতিবাচক সাড়ার সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি এখন বাস্তবায়ন করছে ‘যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে খামার যন্ত্রপাতি গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প। যার আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি আধুনিক কৃষি উৎপাদন ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব যন্ত্র এমনভাবে নকশা ও তৈরি করা হয়েছে, যাতে দাম থাকে কৃষকের হাতের নাগালে।
ফলে বীজ বপন থেকে শুরু করে চারা রোপণ, আগাছা দমন, পোকা নিয়ন্ত্রণ, ফসল কাটা, মাড়াই ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ ধান চাষের পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তির ছোঁয়া। শ্রমনির্ভর চাষাবাদের পরিবর্তে এখন কৃষকের হাতে পৌঁছেছে অ্যাপচালিত বীজ বপন যন্ত্র, সেমি অটোমেটিক ট্রান্সপ্লান্টার, আধুনিক হারভেস্টার এবং সৌরশক্তিনির্ভর পোকা দমন ব্যবস্থা। ফলে কম সময়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, একই সঙ্গে কমছে উৎপাদন খরচ।
একসময় আমদানিনির্ভর থাকলেও বর্তমানে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ কৃষিযন্ত্রেই ঘটছে নীরব বিপ্লব। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ধান চাষের বীজ বপন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি আধুনিক যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। যা কৃষকের শ্রমনির্ভরতা কমিয়ে মাঠে ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তি ও আত্মনির্ভরতা
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এসব যন্ত্র শুধু গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও সহজলভ্য করতে দেশের ১২টি অঞ্চলের ১৫টি ওয়ার্কশপে এসব প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা নিজ নিজ এলাকার ওয়ার্কশপ থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি তৈরি করে নিতে পারছেন। এতে যেমন যন্ত্রের দাম কমছে, তেমনি স্থানীয় উদ্যোক্তা ও কারিগরদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

বীজ বপন থেকে মাড়াই: সময় ও শ্রম বাঁচাচ্ছে আধুনিক দেশীয় প্রযুক্তি
বর্তমানে ধান চাষে বীজ বপন থেকে শুরু করে চারা রোপণ, আগাছা দমন, শস্য কাটা ও মাড়াইসহ চাষাবাদের প্রায় প্রতিটি ধাপেই সময় ও শ্রম সাশ্রয় করছে আধুনিক দেশীয় কৃষিযন্ত্র। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় কমছে, অন্যদিকে কাজের গতি বাড়ায় কৃষকের ওপর শ্রমচাপও কমছে।
জানা গেছে, ধানের বীজতলা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি সিড সোয়ার মেশিন। বাণিজ্যিকভাবে কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এই যন্ত্র ব্যবহার করে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বীজ বপন করা যায়। এই মেশিন দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে একটি ট্রে প্রস্তুত করা সম্ভব এবং কাদা দিয়েও ট্রে তৈরি করা যায়। বৈদ্যুতিক শক্তি চালিত সংস্করণে প্রতি ট্রেতে ১৪০–১৬০ গ্রাম অঙ্কুরিত বীজ বপন করা যায়। একই ক্ষমতার সৌরশক্তি চালিত সিড সোয়ার মেশিন সূর্যের আলো ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বীজ বপনের সুযোগ তৈরি করেছে।
আবার বীজ বপনের ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল অ্যাপস ভিত্তিক ব্রি অটো সিড সোয়ার মেশিন। এই যন্ত্র দিয়ে প্রতি মিনিটে ২৩–২৫টি ট্রে প্রস্তুত করা যায়। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বীজ বপনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকের হাতে প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হয়েছে।
কৃষিতে যুক্ত হয়েছে ইন্টারনেট ও মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার। ‘ব্রি অটো সিড সোয়ার’ মেশিনের মাধ্যমে কৃষক এখন ঘরে বসেই অ্যাপ দিয়ে বীজ বপন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন। এছাড়া সৌরশক্তি চালিত পরিবেশবান্ধব যন্ত্রের ব্যবহার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার পাশাপাশি চাষাবাদকে আধুনিক ও ডিজিটাল করে তুলছে
এরপর চারা রোপণের ক্ষেত্রে ব্রি সেমি অটোমেটিক রাইস ট্রান্সপ্লান্টার কৃষকের শ্রমও অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। এই যন্ত্র দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১ থেকে ১.৫ বিঘা (দেড় বিঘা) জমিতে চারা রোপণ করা যায়। ফলে কৃষকের খরচও যেমন কমেছে, তেমনি সময়ও কমেছে।
একই সঙ্গে ফসলের ক্ষেতে আগাছা দমনে রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ব্রি উইডার। দেশীয় এই যন্ত্রের মাধ্যমে রাসায়নিক ছাড়াই আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেন্টিমিটার হলে ব্রি উইডার দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১০–১২ শতক জমির আগাছা দমন করা সম্ভব। বড় জমির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ব্রি পাওয়ার উইডার, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ বিঘা জমির আগাছা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।
পোকামাকড় দমনের ক্ষেত্রেও দেশীয় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি আলোর পথ দেখিয়েছে। ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের ব্রি সোলার লাইট ট্র্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ধরনের রাসায়নিক ছাড়াই পোকা দমন করা যায়। সন্ধ্যার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতি জ্বলে ওঠে এবং চার ঘণ্টা পর নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও ভূমিকা রাখছে।
বিদেশি যন্ত্রের তুলনায় দেশীয় যন্ত্রগুলোর দাম অনেক কম। ১৫ হাজার টাকার সিড সোয়ার থেকে শুরু করে আড়াই লাখ টাকার হারভেস্টার— সবই কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তি পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরাও এখন যান্ত্রিকীকরণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং লাভবান হচ্ছেন
অন্যদিকে, ধান কাটার ক্ষেত্রে ব্রি রিপার বাইন্ডার ব্যবহার করে একসঙ্গে শস্য কাটা ও বাঁধাই করা সম্ভব হচ্ছে। এই যন্ত্র দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১ থেকে ১.৫ বিঘা জমির শস্য কর্তন করা যায়, যা হাতে কাটার তুলনায় অনেক দ্রুত।

আরও আধুনিকভাবে শস্য কর্তন ও মাড়াইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্রি হোল ফিড কম্বাইন হারভেস্টার। একটি মডেল দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ২ বিঘা এবং অন্য একটি মডেল দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৩ বিঘা জমির ধান কাটা যায়। এক যন্ত্রেই কাটা থেকে মাড়াই সম্পন্ন হওয়ায় সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে এই হারভেস্টার ধান কাটার বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।
আধুনিক হারভেস্টার ও ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারে শ্রম ও সময় সাশ্রয় হচ্ছে অভাবনীয়ভাবে। যেখানে হাতে ধান কাটতে দিন পার হতো, সেখানে হারভেস্টারে ঘণ্টায় ৩ বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াই সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমিক সংকটের দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে এবং উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমেছে
মাড়াইয়ের জন্য ব্রি ধান-গম মাড়াই যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এই যন্ত্র দিয়ে ধান ও গম উভয়ই মাড়াই করা যায় এবং এর মাড়াই ক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ কেজি। পাশাপাশি শস্য ঝাড়াইয়ের জন্য রয়েছে ব্রি শস্য ঝাড়াই যন্ত্র, যা দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি ছোট ও বড় দানাদার শস্য ঝাড়াই করা সম্ভব।
বৃষ্টির মৌসুমে শস্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ব্রি ড্রায়ার। এই যন্ত্র দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ থেকে ৯০০ কেজি দানাদার শস্য শুকানো যায়, যা কৃষকের ক্ষতি কমাতে সহায়ক হচ্ছে।
শস্য সংগ্রহ ও বস্তাবন্দির কাজ সহজ করতে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্রি গ্রেইন কালেক্টর। এই যন্ত্র দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১২০০ কেজি শস্য পরিষ্কার করে বস্তায় ভরা যায়, ফলে সংগ্রহ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যায়ে ব্রি রাইস-ফ্লাওয়ার-স্পাইস মিল একাধিক কাজের সুবিধা দিচ্ছে। এই যন্ত্রে চাল, আটা ও মশলা প্রস্তুত করা যায় এবং প্রতি ঘণ্টায় ৬০০ কেজি ধান ভাঙানো সম্ভব। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজনের জন্য চাল থেকে নুডুলস তৈরির সহজ সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্রি রাইস নুডুলস মেকার। পাশাপাশি ব্রি চিপস মেকার দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৮–১০ কেজি চিপস উৎপাদন করা যায়, যা গ্রামীণ পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করছে।
দেশেই তৈরি হচ্ছে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া
দেশের কৃষি খাতে যান্ত্রিকীকরণে নতুন গতি এসেছে দেশেই আধুনিক কৃষিযন্ত্র উৎপাদনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র ও প্রযুক্তি এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে তৈরি হওয়ায় কমছে আমদানি নির্ভরতা। ফলে একদিকে যেমন কৃষকের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পে কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়ছে।
রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে ব্রি উদ্ভাবন করেছে ‘সোলার লাইট ট্র্যাপ’। এটি দিনের আলোয় চার্জ নিয়ে সন্ধ্যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠে এবং পোকা দমন করে। এর ফলে কৃষকের বিষ প্রয়োগের খরচ কমছে, জমির উর্বরতা বজায় থাকছে এবং উৎপাদিত ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি পাচ্ছে
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রি উদ্ভাবিত কৃষিযন্ত্র ও প্রযুক্তি এখন দেশের ১২টি অঞ্চলের ১৫টি স্থানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেটে আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ফরিদপুরে আর কে মেটাল, চুয়াডাঙ্গায় জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং, জামালপুরে মাহবুব ইঞ্জিনিয়ারিং, ময়মনসিংহে আবেদিন গ্রুপ, দিনাজপুরে সালাম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও উত্তরণ ইঞ্জিনিয়ারিং, বান্দরবানে মেরাজ ইঞ্জিনিয়ারিং, কুষ্টিয়ায় জিএসএম ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকায় আলম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি ও মিলেনিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং, গোপালগঞ্জে এটিএম লিমিটেড, চট্টগ্রামে বাংলামার্ক এগ্রো লিমিটেড এবং কক্সবাজারে প্রসাদ ইঞ্জিনিয়ারিং।

এসব কৃষিযন্ত্র দামেও সাশ্রয়ী। ব্রির সম্ভাব্য তালিকায় দেখা যায়, ব্রি সিড সোয়ার মেশিনের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আধুনিক ফসল কর্তনের জন্য ব্যবহৃত ব্রি হেড ফিড কম্বাইন হারভেস্টারের দাম প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আর ব্রি অটো সিড সোয়ার মেশিনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা।
ধান চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর মধ্যে ব্রি কম্প্যাক্ট রাইস মিলের সম্ভাব্য দাম প্রায় ১২ লাখ টাকা। ব্রি সেমি অটোমেটিক রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা, আর ব্রি রাইস মিলের দাম প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ব্রি রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সম্ভাব্য দাম ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
এছাড়া, বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য ব্রি রাইস–ফ্লাওয়ার–স্পাইস মিলের দাম প্রায় ৯০ হাজার টাকা। জমিতে আগাছা দমনে ব্যবহৃত ব্রি পাওয়ার উইডারের সম্ভাব্য দাম ৬০ হাজার টাকা এবং ব্রি চপার মেশিনের দাম ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। পরিবেশবান্ধব পোকা দমনে ব্যবহৃত ব্রি সোলার লাইট ট্র্যাপের দাম তুলনামূলক কম, প্রায় ১২ হাজার টাকা।
ফসল কাটার পর মাড়াই ও পরিষ্কারে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর মধ্যে ব্রি ধান–গম মাড়াই যন্ত্রের সম্ভাব্য দাম প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ধান কাটার জন্য ব্যবহৃত ব্রি রিপার বাইন্ডারের দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ব্রি ঝাড়াই যন্ত্রের সম্ভাব্য দাম প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া, বড় পরিসরে ফসল কর্তনের জন্য ব্যবহৃত ব্রি হোল ফিড কম্বাইন হারভেস্টারের সম্ভাব্য দাম প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ব্রির উদ্ভাবিত প্রযুক্তি এখন দেশের ১২টি অঞ্চলের ১৫টি স্থানীয় ওয়ার্কশপে তৈরি হচ্ছে। এর ফলে আমদানি নির্ভরতা কমছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠছে নতুন উদ্যোক্তা ও মেকানিক। যন্ত্র নষ্ট হলে এখন আর বিদেশ থেকে পার্টস আনতে হয় না, স্থানীয় বাজারেই মেরামত সুবিধা মিলছে
স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আগে এসব জায়গায় ব্যবহারের জন্য ভারী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এতে কৃষকের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ত। এখন দেশেই উৎপাদন হওয়ায় একাধিক কৃষক মিলে যন্ত্র ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে খরচ কমছে এবং যন্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রাংশ ও মেরামত সুবিধা পাওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তিও কমছে।

দেশীয় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘দেশেই আধুনিক কৃষিযন্ত্র উৎপাদন শুরু হওয়ায় কৃষকের জন্য প্রযুক্তি গ্রহণ অনেক সহজ হয়েছে। আগে আমদানি করা যন্ত্রের উচ্চ মূল্য ও রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতার কারণে অনেক কৃষক আগ্রহী হলেও ব্যবহার করতে পারতেন না। এখন স্থানীয়ভাবে তৈরি যন্ত্র সহজলভ্য হওয়ায় সিলেট অঞ্চলেও ধীরে ধীরে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ বাড়ছে।’
এই কর্মকর্তা জানান, কৃষিযন্ত্র দেশেই তৈরি হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমছে এবং সময় ও শ্রম সাশ্রয় হচ্ছে। বিশেষ করে ধান রোপণ ও কাটাইয়ের যন্ত্রগুলো কৃষকের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
সরকার কৃষির সামগ্রিক আধুনিকায়নে ২৫ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সারের অপচয় রোধ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের স্থান নিশ্চিত করা। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ চলছে
শামসুজ্জামান মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘বিদেশি যন্ত্রগুলো কোনো কারণে যদি নষ্ট হতো, সেগুলো ঠিক করা খুব কঠিন ছিল। আমাদের এখানকার মেকানিকরা অধিকাংশ এগুলো ঠিক করতে পারতেন না। ফলে কৃষিযান্ত্রিকীকরণে কৃষকদের আগ্রহে ভাটা পড়েছিল। তবে, এখন স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রাংশ ও মেরামত সুবিধা থাকায় এসব যন্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের আস্থা তৈরি হচ্ছে। যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করি।’

দেশীয় যন্ত্রে বদলেছে কৃষকের ভাগ্য, মাঠে মাঠে সন্তুষ্টির গল্প
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের চাষাবাদের ধরন বদলে যাচ্ছে। শ্রমনির্ভরতা কমে আসায় একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় কমছে, অন্যদিকে সময়মতো কাজ শেষ করতে পারায় বাড়ছে উৎপাদন ও আয়। মাঠপর্যায়ে এসব যন্ত্র ব্যবহার করা কৃষক ও ব্যবহারকারীরা বলছেন, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ কৃষিযন্ত্র তাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কৃষক আবদুল বারেক হাওলাদার জানান, আগে ধান রোপণ ও কাটার মৌসুম এলেই শ্রমিক সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো। এখন অটোমেটিক রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও রিপার বাইন্ডার ব্যবহারের ফলে অল্প সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ধান চাষে লাভের পরিমাণ বেড়েছে। তার ভাষায়, যন্ত্র ব্যবহারের কারণে চাষাবাদ এখন আগের তুলনায় অনেক স্বস্তির।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কৃষক শামসুল হক জানান, ব্রি সোলার লাইট ট্র্যাপ ব্যবহারের ফলে পোকা দমনে রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমে এসেছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমেছে, অন্যদিকে জমির স্বাস্থ্যও ভালো থাকছে। একই সঙ্গে রাসায়নিকমুক্ত বা কম রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে ফলনের গুণগত মানও উন্নত হচ্ছে।
হাওর অঞ্চলে আধুনিক যন্ত্রের সুফল আরও বেশি স্পষ্ট— জানান সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হাওরে ধান কাটার সময় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকে। কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের ফলে এক যন্ত্রেই ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন করা যায়। এতে অল্প সময়ে বেশি জমির ধান ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে। যা হাওর এলাকার কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তির।’
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কৃষক রেজাউল করিম বলেন, ‘আগে বিদেশি যন্ত্র নষ্ট হলে তা মেরামত করাতে অনেক সমস্যা হতো। এখন দেশেই যন্ত্র তৈরি হওয়ায় স্থানীয় ওয়ার্কশপে সহজে যন্ত্রাংশ ও মেরামত সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে, পাশাপাশি যন্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের আস্থাও বাড়ছে।

কমছে বিদেশ নির্ভরতা, দেশেই তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের কৃষিযন্ত্র : ব্রি পরিচালক
গত কয়েক বছর ধরে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের কৃষিযন্ত্র তৈরির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে খামার যন্ত্রপাতি গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ধারায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। স্থানীয়ভাবে মানসম্পন্ন যন্ত্র তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতেই ব্রি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা চাচ্ছি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশের মাটিতে প্রযুক্তি বানানোর সক্ষমতা তৈরি করতে। এখন আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।”
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘কৃষিতে উন্নত যন্ত্র না থাকলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবিলা কিংবা সময় মতো ফসল কাটা— কোনোটিই সম্ভব নয়। তাই সরকারি নীতিমালাকে সামনে রেখে ব্রি মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মেকানিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রের সার্ভিস হাব, স্পেয়ার পার্টস সাপ্লাই চেইনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তুলছে। কৃষকের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী দামে মানসম্পন্ন যন্ত্র পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সেখানেই আমরা কাজ করছি।’
কৃষি যান্ত্রিকীকরণের এই রূপান্তর কেবল উৎপাদন বাড়াবে না, বরং দেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা ও শিল্প তৈরির সুযোগ তৈরি করবে— উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই দেশের কৃষকের হাতে এমন যন্ত্র পৌঁছাক যা বাংলাদেশেই তৈরি, বাংলাদেশের জলবায়ু উপযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। কারণ, কৃষিতে উন্নত যন্ত্র না থাকলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবিলা কিংবা সময়মতো ফসল কাটা—কোনোটিই সম্ভব নয়। তাই সরকারি নীতিমালাকে সামনে রেখে ব্রি মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মেকানিক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রের সার্ভিস হাব, স্পেয়ার পার্টস সাপ্লাই চেইনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।’

দেশে আধুনিক কৃষিযন্ত্র উৎপাদনে বড় বাধা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকরণের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে সামনে আসছে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের অদক্ষতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ দুরুল হুদা জানান, আধুনিক মানের কৃষিযন্ত্র ডিজাইন তৈরি করলেও স্থানীয় প্রস্তুতকারীরা মানসম্মত যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবলের অভাবে সেই মান বজায় রেখে উৎপাদন করতে পারছেন না। কারণ, তাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি, সিএনসি মেশিন, মানসম্পন্ন লেদ মেশিন এবং দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি রয়েছে। ফলে কম্বাইন হারভেস্টার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো অত্যাধুনিক কৃষিযন্ত্র ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ হিসেবে তৈরি হওয়ার পথে বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।
দুরুল হুদা বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে ব্রির প্রোটোটাইপ ভালো কাজ করলেও স্থানীয় প্রস্তুতকারীরা বড় পরিসরে উৎপাদন করতে গিয়ে পারফেকশন বজায় রাখতে পারেন না। বিশেষ করে যন্ত্রাংশের ইন্টারচেঞ্জেবিলিটি বা এক কোম্পানির অংশ অন্য কোম্পানির যন্ত্রে ব্যবহার করার মানদণ্ড তারা মেনে চলতে ব্যর্থ হন। এর প্রধান কারণ হলো দেশে আধুনিক লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফাউন্ডারি শিল্পের অভাব।’
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর মতো (যেমন— কুবোটা, ইয়ানমার, ড্যাডং) বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্র্যান্ড উৎপাদকদেরও নিজেদের তৈরি যন্ত্রাংশের মাত্র ৩০–৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে হয়। বাকি ৬০–৭০ শতাংশ পার্টস আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু দেশে আধুনিক আউটসোর্সিং ইকোসিস্টেমই নেই। ফলে কৃষিযন্ত্রের অ্যাসেম্বলি লাইন গঠন কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলছেন, কৃষিকে লাভজনক করতে একদিকে যেমন খরচ কমানো প্রয়োজন, অন্যদিকে আয়ও বাড়াতে হবে। এই দুই ক্ষেত্রেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে দেখতে হবে। কারণ, কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলেই কৃষিকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশায় পরিণত করা সম্ভব।

কৃষির উন্নয়নে ২৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে : সচিব
দেশের কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং এর আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে আগামী ২৫ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে— জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। সম্প্রতি তিনি বলেন, কৃষির ১৩টি খাতকে এ পরিকল্পনায় প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৭টি সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্যও ২৫ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় স্বল্পমেয়াদি অর্থাৎ ৫ বছরের জন্য বেশকিছু প্রকল্পও রাখা হবে। তবে, এগুলো বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও গবেষণা করেই নেওয়া হবে।
সচিব বলেন, আমরা এমনভাবে পরিকল্পনা নিচ্ছি যাতে বছরে সারের খরচ দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়। এসব পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন বাড়ানো, স্থানীয় পণ্যের প্রক্রিয়াকরণ শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের স্থান নিশ্চিত করা হবে। এতে (পরিকল্পনায়) কৃষিযন্ত্রের মেকানাইজেশন, ইমপোর্ট সাবস্টিটিউশন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং এগ্রিকালচার প্রোডাক্টের ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আরএইচটি/এমএআর/
