বিজ্ঞাপন

এসএসসি পরীক্ষা : ক্যামেরা-ট্র্যাকিংয়ে নজরদারি, অনিয়মে খোয়া যাবে চাকরি

অ+
অ-
এসএসসি পরীক্ষা : ক্যামেরা-ট্র্যাকিংয়ে নজরদারি, অনিয়মে খোয়া যাবে চাকরি

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার শুদ্ধিকরণ ও মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিতে নতুন এক কঠোর অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় নকল নির্মূল এবং প্রশ্ন ফাঁস রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় শুধু পরীক্ষার্থীরাই নয়, কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের পাবলিক পরীক্ষা।

নিশ্ছিদ্র প্রযুক্তির পাহারা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না; শিক্ষার্থীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই প্রকৃত নম্বর প্রদান করা হবে। মেধার এই লড়াইকে স্বচ্ছ করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে আনা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরবন্দিতে। শুধু ক্যামেরা স্থাপনই নয়, ধারণকৃত ফুটেজ প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকার কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মেধার প্রকৃত মূল্যায়নে ডিজিটাল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিশেষ ‘ফয়েল প্যাক’ ও ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুতির মতো নজিরবিহীন কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে

এছাড়া, প্রশ্নপত্র সুরক্ষায় এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নগুলো প্রথমে বিশেষ ‘ফয়েল প্যাকে’ এবং পরবর্তীতে একটি ‘ওয়ান টাইম’ সিকিউরিটি খামে ভরা হচ্ছে। এই খামটি এমনভাবে তৈরি যে, একবার খোলা হলে তা আর পুনরায় লাগানো সম্ভব নয়। ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন কেন্দ্রে নেওয়ার সময় একজন ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন এবং পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সবার উপস্থিতিতে খাম খোলা হবে। ফলে প্রশ্ন ফাঁসের চিরাচরিত ছিদ্রপথগুলো এবার পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে।

dhakapost

পরীক্ষার্থীদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ

বিজ্ঞাপন

পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার পরীক্ষার্থীদের ওপর থাকছে কঠোর বিধিনিষেধ। কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে না। কেন্দ্রে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিবিড় ‘নিরাপত্তা চেক’ পার হতে হবে। পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে; নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশির জন্য নারী শিক্ষকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

সাইবার নজরদারি ও গুজব রোধ

পরীক্ষার আগে গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে সাইবার নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ শাখা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।

প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র ও কক্ষকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে, যার ফুটেজ নিয়মিত শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ১১টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করে পরীক্ষা শুরুর আগেই সব ক্যামেরা সচল করা এবং কেন্দ্রে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের নিবিড় দেহ তল্লাশি বাধ্যতামূলক করেছে। এছাড়া, কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো পরীক্ষার্থীই নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে না

পরিদর্শন ও মনিটরিং টিম

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রতিটি কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো ও প্রস্তুতি যাচাই করতে বিশেষ পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নকলের প্রবণতা বন্ধে এবার বিশেষ ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘কেন্দ্র কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পরীক্ষা পরিচালনার যাবতীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করবে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

এসএসসি পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নকলমুক্ত এবং প্রশ্নফাঁসের ন্যূনতম সুযোগহীন পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং সেই ফুটেজ নিয়মিত বোর্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির এই নিশ্ছিদ্র পাহারায় কোনো ধরনের অনিয়ম ঢাকা পড়ার সুযোগ নেই।

dhakapost

‘প্রশ্নপত্রের সুরক্ষায় আমরা এবার ফয়েল প্যাক এবং ওয়ান টাইম সিকিউরিটি খাম ব্যবহার করছি, যা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি কোনো কেন্দ্রে বা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ধরা পড়ে, তবে কেবল পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এইচএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের সংস্কার এনেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। কেন্দ্র সংখ্যা হ্রাস, তদারকি সহজ করতে ২৯২টি ভেন্যু বাতিল এবং সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এবং শিক্ষা ক্যালেন্ডার নিয়মিত করতে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

অন্যদিকে, আসন্ন দাখিল পরীক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই এই পরীক্ষা কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস, নকল বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতর্কিত হতে দেওয়া যাবে না। সরকার এক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আমরাও সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করব।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে— এই বার্তা আমরা এরই মধ্যে পৌঁছে দিয়েছি।’

পরীক্ষার আগেই সচল করতে হবে সব সিসিটিভি ক্যামেরা : মাউশি

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য ১১টি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্র এবং প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা অচল রয়েছে, সেগুলো পরীক্ষা শুরুর আগেই সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে হবে।

dhakapost

মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে ‘কাটাওয়ালা’ ঘড়ি টাঙাতে হবে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীদের নকল বা অসদুপায় অবলম্বন ঠেকাতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি কেন্দ্রে প্রবেশের আগে দেহ তল্লাশি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকের মাধ্যমে তল্লাশি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা টাঙিয়ে রাখতে হবে। কেন্দ্রগুলোতে পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাউশি স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কড়াকড়ি হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায়ও

২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এরই মধ্যে প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষার্থী স্বল্পতা, ল্যাব সুবিধার অভাব এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের কারণে ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১৫টি কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকার কদমতলা পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্‌সের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

সেই সঙ্গে তদারকি সহজ করতে এবার ২৯২টি ভেন্যু কেন্দ্র (সহযোগী কেন্দ্র) বাতিল করা হয়েছে। তবে, বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় কিশোরগঞ্জের নিকলী ও অষ্টগ্রামে দুটি ভেন্যু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারও প্রবাসী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিদেশে মোট আটটি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো— জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপলি, দোহা (কাতার), আবুধাবি, রাস আল খাইমা (দুবাই), বাহরাইন এবং ওমানের সাহাম।

এছাড়া, চলতি বছর থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আরএইচটি/এমএআর/