গণভোট
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন
গণভোট কী এবং কেন প্রয়োজন?
সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হয়, কিন্তু গণভোটে লড়াই হয় 'হ্যাঁ' অথবা 'না' সিদ্ধান্তের মধ্যে। এটি সরাসরি জনগণের রায় নেওয়ার সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
১এটি কীভাবে কাজ করে?
প্রশ্ন উপস্থাপন
ব্যালট পেপারে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকে। যেমন: "আপনি কি সংবিধানের এই পরিবর্তনের পক্ষে?"
সিদ্ধান্ত গ্রহণ
গণনা ও ফলাফল
সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২কেন এই ভোট দেওয়া হয়?
সংবিধান পরিবর্তন
রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি বা সংবিধানে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে জনগণের সরাসরি সম্মতির প্রয়োজন হলে।
গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত
অন্য কোনো দেশের সাথে যুক্ত হওয়া, বিচ্ছিন্ন হওয়া বা বড় কোনো চুক্তির অনুমোদনের ক্ষেত্রে।
জনপ্রিয়তা ও আস্থা যাচাই
সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান যখন নিজের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা যাচাই করতে চান।
নমুনা গণভোট ব্যালট
গণভোট
গণভোট-২০২৬ এর জন্য পোস্টাল ব্যালট পেপার
"আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে নিম্নলিখিত সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?" (হ্যাঁ/না):
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।
আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে।
সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে একমতো হইয়াছে- সেগুলো বাস্তবায়ন জাতীয় সংসদ নিশ্চিত করিতে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।
জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।
| হ্যাঁ | |
| না |
ভোট প্রদানের জন্য উপরের যে-কোনো একটিতে (✓) টিক বা (✗) ক্রস চিহ্ন দিন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
‘হ্যাঁ’/‘না’ ভোট
রাষ্ট্রপতির আস্থা যাচাই
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসন ও তার নীতির প্রতি জনগণের আস্থা যাচাইয়ের জন্য এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
শাসন ব্যবস্থা নির্ধারণ
সংসদীয় নাকি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থাকবে— তা নির্ধারণের জন্য এই ভোটে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিজয় হয়।
ভালো ও মন্দ দিক
যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মতোই গণভোটেরও কিছু সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
ইতিবাচক দিক
জনগণের সরাসরি মতামত প্রতিফলিত হয়।
বড় কোনো রাজনৈতিক সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব।
গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ চর্চা হিসেবে গণ্য করা হয়।
চ্যালেঞ্জসমূহ
জটিল বিষয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে।
শাসকগোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে এটি ব্যবহার করে।
বিরোধী পক্ষ প্রচারের সমান সুযোগ না-ও পেতে পারে।
জুলাই জাতীয় সনদের
১২ দফা লক্ষ্যসমূহ
প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রধান স্তম্ভসমূহ।
সংবিধান সংশোধন সীমাবদ্ধতা
সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।
গণভোটের বিধান
সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।
সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব
বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা
যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
নারীর প্রতিনিধিত্ব
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে।
সংসদের উচ্চকক্ষ
ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা
দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
মৌলিক অধিকার বৃদ্ধি
আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন
দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।
ক্ষমতার ভারসাম্য
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।
ভাষার স্বীকৃতি
রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষারও সাংবিধানিক স্বীকৃতি হবে।
যৌথ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে।