প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ ‌‘অদক্ষ ধাত্রী’

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১৪ পিএম


প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ ‌‘অদক্ষ ধাত্রী’

গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়িতেই অদক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে ডেলিভারি হয়ে থাকে, যে কারণে মাতৃমৃত্যু রোধ করা কঠিন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় মা ও নবজাতকের সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি নিশ্চিতের তাগিদের পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে মিডওয়াইফদের পদায়নের তাগিদ তাদের।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। 

বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন মা এবং ৫০০ নবজাতকের মৃত্যু হতো। বর্তমানে তা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন প্রতি লাখে ১৬৪ মায়ের মৃত্যু হয়। তবে এটিকে আরও কমিয়ে ১০০’র নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

আলোচকরা বলেন, মাতৃমৃত্যু প্রধানত দুইটি কারণে হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো বাড়িতে অদক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে ডেলিভারি, দ্বিতীয়ত হলো রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনি। মা ও শিশুদের মৃত্যু মোকাবিলায় ডেলিভারি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রোগীরা এমন অবস্থায় হাসপাতালে আসেন, যখন আর কিছুই করার থাকে না। মাতৃমৃত্যু রোধে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মায়েদের হাসপাতালে আনা। তাদের হাসপাতালে আনতে পারলে মাতৃমৃত্যু সমস্যা বহুলাংশেই সমাধান হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ফেরদৌসি বেগম বলেন, স্বাধীনতার পর প্রতিদিন প্রায় ৪০ মা এবং ৫০০ নবজাতক মারা যেত। এ অবস্থায় আমরা কাজ শুরু করেছি। লাখে প্রায় ৫০০ মায়ের মৃত্যু হতো। বর্তমানে এটি ১৬৪ জনে নেমে এসেছে। তবে এটাকে আরও কমিয়ে আনতে হবে। এখনে প্রধান প্রতিবন্ধকতা অপ্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি। এখনও শতকরা ৫০ ভাগ ডেলিভারি বাড়িতে অদক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে হয়। আমরা সেটাকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে চাই। যেন মাতৃ ও শিশু মৃত্যু না ঘটে।

তিনি আরও বলেন, গর্ভবতী নারীর সেবায় প্রতিটি স্তরে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবুও অনেকে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে যান না। গর্ভাবস্থায় মাত্র ৪৭ শতাংশ মা ৪ বার চিকিৎসকের কাছে আসেন। মায়েদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওজিএসবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা।

তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে কয়েকটি সূচক রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৬০ শতাংশ কাপল কনডম ব্যবহার করেন। এটাকে আরও বাড়াতে হবে। আমাদের বর্তমান ফার্টিলিটি রেট ২ দশমিক ২ এটাকে ২ এর নিচে নামিয়ে আনতে হবে। এ সব বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছি। পরিবার পরিকল্পনায় আমরা দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপে জোর দিচ্ছি। এতে সফলতার হার প্রায় শতভাগ। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এখন শুধু এটির ব্যাপারে জনগণকে জানাতে হবে।

অনুষ্ঠানে ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসি বেগম, অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম, অধ্যাপক ডা. পারভিন ফাতেমা, অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. কোহিনুর বেগম, অধ্যাপক ডা. সেহেরিন ফরহাদ সিদ্দিকা, অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান এবং অধ্যাপক ডা. এস কে জিন্নাত আরা নাসরিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টিআই/এমএ

Link copied