রোগী বিবেচনায় প্রয়োজনীয় গবেষণায় গুরুত্বারোপ বিএমইউ ভিসির

দেশের বিপুল রোগীর চিকিৎসা ডাটাকে গবেষণার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার এবং রোগীর কল্যাণ বিবেচনায় নতুন, মৌলিক ও প্রয়োজনীয় গবেষণায় জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভিসি শাহিনুল আলম। একইসঙ্গে পিএইচডি গবেষণার মান অক্ষুণ্ন রেখে গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। উপাচার্য বলেন, রোগীকেন্দ্রিক গবেষণাই দেশের স্বাস্থ্যনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে রিসার্চ গ্রান্ট পাওয়া পিএইচডি গবেষকদের গবেষণার অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এসব কথা বলেন।
সভায় শুরুতেই গবেষকরা তাদের গবেষণার অগ্রগতি, ফান্ড ব্যবস্থাপনা, প্রকাশনা পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আলোচনায় গবেষণা ফান্ড, মানোন্নয়ন, প্রকাশনা, ডাটা সংরক্ষণ, নতুন গবেষণা ক্ষেত্র নির্বাচন, কোলোকিয়াম আয়োজনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
এসময় শাহিনুল আলম বলেন, পিএইচডি প্রোগ্রাম বিএমইউর আলোকবর্তিকা। এই গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, গবেষকদের কাজ থেকে এমন নতুন উদ্ভাবন আসতে পারে, যা কপিরাইট ও পেটেন্ট অধিকারের মতো সম্পদে পরিণত হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গবেষণার বিষয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিসরেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গবেষণার বিষয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোগীর ডাটাকে গবেষণার অফুরন্ত ভান্ডার হিসেবে উল্লেখ করে বিএমইউ ভিসি বলেন, বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এই বিশাল ডাটা সংরক্ষণ করা গেলে গবেষণার জন্য তা বিশাল সম্পদে পরিণত হবে। বিএমইউর গবেষণা দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর অবদান রাখবে, সেটাই প্রত্যাশা।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড নিশ্চিত করা হয়েছে এবং গবেষকদের সব ধরনের সহায়তা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।
কোষাধ্যক্ষ নাহরীন আখতার বলেন, গবেষণার লক্ষ্য শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং মানোন্নয়ন এবং নতুন উদ্ভাবন সৃষ্টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন বিষয় আবিষ্কার হওয়া জরুরি। গবেষণার বিষয় যেন রোগী ও দেশের প্রয়োজনে কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেভাবেই নির্বাচন করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে একাধিক গবেষকের গবেষণা স্কপাস ও পাবমেড ইনডেক্সড আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে অথবা প্রকাশ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সভায় পূর্বে সম্পন্ন গবেষণার পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে সম্পূর্ণ নতুন বিষয়ের গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গবেষণার মান বজায় রাখা ও গবেষণা সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উঠে আসে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় অন্তর পিএইচডি কোলোকিয়াম আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মেডিসিন অনুষদের ডিন শামীম আহমেদ, সার্জারি অনুষদের ডিন মো. ইব্রাহীম সিদ্দিক, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন সাইফ উল্লাহ মুন্সী, শিশু অনুষদের ডিন মো. আতিয়ার রহমান, প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন মো. আতিকুল হক, ডেন্টাল অনুষদের ডিন সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন এম আবু হেনা চৌধুরী, রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম, প্রক্টর শেখ ফরহাদ, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস শাকুর, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহেল মাহমুদ আরাফাতসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, গবেষণা গাইড ও সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ।
টিআই/এসএসএইচ