বিড়াল পোষা নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদ গড়াল আদালতে

Dhaka Post Desk

ঢাকা পোস্ট ডেস্ক

১০ আগস্ট ২০২২, ১১:০১ এএম


বিড়াল পোষা নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদ গড়াল আদালতে

দক্ষিণ কলকাতার গড়চা লেনের একটি আবাসনে বিড়াল পোষা নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

এক পক্ষের দাবি, বিড়াল পোষার কারণে আবাসনের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। তার ওপরে রাস্তার বিড়ালদেরও এমনভাবে খাওয়ানো হচ্ছে যে, সহজে চলাফেরা করা যাচ্ছে না। কারণ চারদিকে ছড়িয়ে থাকা বিড়ালদের মলমূত্র ও তাদের লোম মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

অপর পক্ষের দাবি, বিড়ালের অজুহাত দিয়ে অহেতুক হেনস্তা করা হচ্ছে। নিয়ম মেনে পরিচ্ছন্নভাবে তাদের পোষা হয়। রাস্তার বিড়ালদেরও এমনভাবে খাওয়ানো হয় যে, নোংরা হওয়ার প্রশ্নই নেই। তাছাড়া ফ্ল্যাটের পোষ্য বিড়াল তো বটেই, এমনকি রাস্তার সব বেড়ালকেও প্রতিষেধক দেওয়া রয়েছে।

দক্ষিণ কলকাতার গড়চা লেনের একটি আবাসনে বিড়াল নিয়ে দু’পক্ষের এই বিবাদের কথা এরইমধ্যে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, কলকাতা পৌরসভা, গড়িয়াহাট থানা, লালবাজার, অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড, রাজ্য ও জাতীয় মহিলা কমিশন-সহ বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছেছে। সব জায়গা ঘুরে শেষ পর্যন্ত তা গিয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, পৌরসভা এবং গড়িয়াহাট থানার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গড়েছেন পরিবেশ আদালত।

সংশ্লিষ্ট আবাসনের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এক বাসিন্দা মোহর চট্টোপাধ্যায় তার ফ্ল্যাটে প্রায় ৮০টি বেড়াল পোষেন। সেই সঙ্গে রাস্তার আরও ৭০-৮০টি বেড়ালকে খাওয়ান। অভিযোগকারীদের আইনজীবী পৌষালি বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, বেআইনিভাবে বিড়াল পোষায় আবাসনের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। বিড়ালের মলমূত্র, তাদের খসে পড়া লোমের কারণে বায়ুদূষণ ও পরিবেশদূষণ হচ্ছে। পৌষালির কথায়, ‘আবাসিক এলাকায় এমনভাবে বেড়াল পোষা হচ্ছে যাতে স্বাস্থ্যসংকট তৈরি হয়েছে। আবাসনের সাধারণ জায়গাগুলোতেও বিড়ালের উপদ্রবে চলাফেরা করা মুশকিল হচ্ছে। তাছাড়া পশুজনিত রোগেরও আশঙ্কা থাকছে।’ 

উল্টো দিকে, বিড়াল পোষার কারণে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে আবাসিকদের একাংশ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্ত, এমনকি প্রাণে মারারও হুমকি দিচ্ছেন বলে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ করেছেন মোহর। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে ওঠা রাস্তার ৭০-৮০টি বিড়ালকে খাওয়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ, গোটা এলাকায় অত বিড়াল একসঙ্গে পাওয়া অসম্ভব। তাছাড়া, পোষা বেড়ালদের ফ্ল্যাটের বাইরে বেরোনো আটকাতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা-ব্যবস্থা রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, ফ্ল্যাট এবং রাস্তার বিড়ালদের প্রতিষেধক দেওয়া রয়েছে এবং তার প্রামাণ্য নথিও আছে। মোহর এ-ও জানাচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়েও আছে, রাস্তার পশুপাখিদের খাওয়ানো নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তার কথায়, ‘বিড়ালের কারণে কীভাবে বায়ুদূষণ বা পরিবেশদূষণ হয়, তা আমিও দেখতে চাই। আদালতের উপরে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

এদিকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, পৌরসভা ও গড়িয়াহাট থানার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কমিটিকে পরিবেশ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আবাসন সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করতে। আগামী শুক্রবার ওই কমিটির আবাসন পরিদর্শনে যাওয়ার কথা। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ আগস্ট।

ফলে বিড়াল নিয়ে বিবাদ কোন পথে এগোয়, সব পক্ষ এখন সেদিকে তাকিয়ে!

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

জেডএস

Link copied