যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বৈঠক স্থগিত

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২৯ পিএম


যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বৈঠক স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত হ্রাসে ৩৫ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি  স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটির (স্টার্ট) আওতায় আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে যে বৈঠক ও সংলাপ শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অনিবার্য কারণবশত দ্বিপাক্ষিক কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠকের সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে কায়রোতে ওই বৈঠক শুরু হচ্ছে না। পরবর্তী সূচি যথাসময়ে জানানো হবে।’

স্টার্ট মূলত একটি কৌশলগত চুক্তি। ১৯৮৭ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এটি। চুক্তির আওতায় পরাশক্তি দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া  বিশ্বকে ‘সম্ভাব্য বিপর্যয়’ থেকে রক্ষা করতে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত হ্রাসে ঐকমত্যে পৌঁছায়।

এছাড়া নিজেদের ভাণ্ডারে কোন কোন ধরনের পরমাণু অস্ত্র রয়েছে— সেসব সম্পর্কে পরস্পরকে অবহিত করা ও পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত পরিদর্শনের ব্যাপারটিও ছিল সেই চুক্তিতে।

১৯৮৭ সালে গর্বাচেভ ও রিগ্যানের মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল, তার নাম ছিল স্টার্ট ওয়ান। পরে গত শতকের নব্বইয়ের দশক ও বর্তমান শতকের প্রথম দশকে এ সম্পর্কিত আরও কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে।

ষাটের দশকের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে শুরু হওয়া শীতল যুদ্ধের অবসানে স্টার্টের ভূমিকা ছিল গভীর ও ব্যাপক।প্রায় প্রতি বছরই এ চুক্তির আওতায় বৈঠক ও সংলাপ হয়ে আসছিল দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে।

কিন্তু করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে তাতে ছেদ পড়ে। দু’বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছর ২৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মিশরের রাজধানী কায়রোতে হওয়ার কথা ছিল এই বৈঠক।

ঠিক কী কারণে এই সংলাপ স্থগিত করা হলো সে সম্পর্কে রাশিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কিছু বলা হয়নি। তবে মস্কোর মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা রুশ দৈনিক কম্মারসেন্টকে জানিয়েছেন, বৈঠক মূলতবি রাখার সিদ্ধান্তটি ছিল রাশিয়ার।

সূত্র : রয়টার্স

এসএমডব্লিউ

Link copied