সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ জুন ২০২১, ০৪:০৮ পিএম


সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

মিয়ানমারের কারবন্দি নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে এবার ভূমি দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা। এর আগে তার বিরুদ্ধে ঘুষ হিসেবে অর্থ ও স্বর্ণ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ব সংবাদ সংস্থা দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালে নিজের দাতব্য সংস্থা দাও খিন কাই ফাউন্ডেশনের নামে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ করেছিলেন সু চি। এই সংস্থার চেয়ারপারসনও তিনি।

মিয়ানমারের দুর্নীতি দমন সংস্থা জানিয়েছে, শুধু সু চিই নন, তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির উচ্চ ও মাঝারি পর্যায়ের অনেক নেতা অবৈধ ভূমি দখল ও এই বিষয়ক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। সংস্থার একজন মুখপাত্র দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যাবহরের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভূমি দখল করেছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। সেই ভিত্তিতে মিয়ানমারের দুর্নীতি বিরোধী আইনের ৫৫ ধারা অনুযায়ী তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’

সাম্প্রতিক এই অভিযোগের বিষয়ে সু চির আইনজীবী মিন মিন সোয়ের মন্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল রয়টার্স, কিন্তু তাৎক্ষনিকভাবে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এর আগে তার বিরুদ্ধে ঘুষ হিসেবে অর্থ ও স্বর্ণ গ্রহণের অভিযোগে মামলা করেছিল সামরিক সরকার। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় থাকা কালে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে সু চি মোট ৬ লাখ ডলার ও সাত খণ্ড স্বর্ণ ঘুষ হিসেবে নিয়েছিলেন।

মিয়ানমারের আইন ও বিচারবিভাগ সংশ্লিষ্টরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুর্নীতির এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে মিয়ানমারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৪ বছর কারাবাসের সাজা হতে পারে এনএলডি নেত্রীর।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ঘুষ নেওয়া ছাড়াও অনুমোদনহীন ওয়াকি টকি ব্যবহার, রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে সু চির বিরুদ্ধে মোট ৬ টি মামলা করেছে জান্তা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগটি বেশ গুরুতর। এর সত্যতা প্রমাণ হলে তাকে আরও ১৫ বছর সাজা খাটতে হবে।

২০২০ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিন অং হ্লেইং এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন।

ক্ষমতা দখলের পরপরই গৃহবন্দি করা হয় অং সান সু চিকে। গ্রেফতার হন তার দল এনএলডির বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক।

সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই সু চি ও তার দল এনএলডির গ্রেফতার সদস্যদের মুক্তির দাবিতে মিয়ানমারজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন; এবং কঠোর হাতে সেই আন্দোলন দমনে তৎপর হয় জান্তা। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, সেনা শাসনবিরোধী এই বিক্ষোভে জান্তার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ ছাড়া সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী বর্তমানে কারাঅন্তরীণ আছেন।

তবে মিয়ানমারের পরিস্থিতি তাতে শান্ত হয়নি। এখনও দেশটিতে আন্দোলন চলছে এবং সামরিক সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে ইতোমধ্যে একটি ছায়া সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন জান্তাবিরোধীরা।

আগামী ১৪ জুন থেকে মিয়ানমারের আদালতে দেশটির  কারাঅন্তরীণ গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির বিচার শুরু হচ্ছে। গত ৭ জুন সু চির আইনজীবী মিন মিন সোয়ে ফ্রান্সের বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

এসএমডব্লিউ

Link copied