মৃত্যুর পর মরদেহ কবরস্থ করার বদলে দাহ করার নির্দেশনা দেওয়ায় চীনের গুইঝো প্রদেশে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন গত সপ্তাহে এমন নির্দেশনা দেয়। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হন।
গুইঝো চীনের দরিদ্র প্রদেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি সাংহাই বা শেনজেনের মতো চাকচিক্যময় ও শহুরে নয়।
বিগ ক্যাটের এক্স অ্যাকাউন্টে গত সোমবার ওই বিক্ষোভের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে গুইঝোর শিদং শহরের বাসিন্দাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, “কমিউনিস্ট পার্টি যদি আমাদের পূর্ব পুরুষদের কবর খুঁড়তে চায়। তাহলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্বপুরুষদের কবর যেন আগে খুঁড়ে।”
বিজ্ঞাপন
সেখানে মিয়াও জাতির মানুষ বাস করেন। তাদের ঐতিহ্য হলো মৃতদের কবর দেওয়া।
মানুষের বিক্ষোভ বাড়ার পর স্থানীয় প্রশাসন মঙ্গলবার একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশে তারা বলেছে, ২০০৩ সালের আইন অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূলত কবর দিতে গেলে জায়গা লাগে। আর দাহ করলে এটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তাই জায়গা বাঁচাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের কবরস্থানগুলোতে জায়গার সংকট দেখা যাচ্ছে। এ কারণে সরকার মরদেহ দাহ বা সমুদ্রে সমাাহিত করার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে। দাহ করলে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। অপরদিকে সমুদ্রে সমাহিত করলে মরদেহ কফিনে ভরে এতে ভারী বস্তু রেখে সমুদ্রে পুরোপুরি ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
প্রদেশটির শিফেং কাউন্টির এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, গত বছর প্রশাসনের চাপে পড়ে তার দাদার মরদেহ দাহ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ওই সময় প্রশাসন থেকে হুমকি দেওয়া হয় মরদেহ দাহ না করলে তিন প্রজন্মকে নেতিবাচক পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এমটিআই
