‘আমাদের আঙুল ট্রিগারে’ ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা ইরানের শীর্ষ কমান্ডারের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ফের ইরানকে সংলাপের জন্য আহ্বান জানিয়ে সেই সংলাপ চলাকালীন অবস্থায় দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তা মিত্র ইসরায়েলকে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ ও ‘মর্মান্তিক’ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ সেনা কমান্ডার মোহম্মদ পাকপৌর।
ইরানের সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার জেনারেল মোহম্মদ পাকপৌর গতকাল বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, “আইআরজিসি মনে করে যে ইরানে হামলার ব্যাপারে যাবতীয় বিভ্রান্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ইসরায়েলের মুক্ত থাকা উচিত এবং গত বছর জুন মাসে তাদের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান স্মরণে রাখা উচিত। তারা যদি সেই স্মৃতি ভুলে যায়— তাহলে খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক পরিণতি ভোগ করছে তাদের জন্য।”
“আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই— ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং আমাদের প্রিয় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আঙুল তাদের বন্দুকের ট্রিগারে আছে। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ইরান অনেক বেশি প্রস্তুত এবং আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও শীর্ষ কমান্ডার ইন চিফের আদেশ পালনের জন্য তৈরি।”
গতকাল সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈশ্বিক সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছেন, “ইরান পরমাণু বোমা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। (ইরানের) পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে সেই উদ্যোগ থামিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।”
“ইরান এখন সংলাপে বসতে চাইছে এবং আমরা সংলাপে বসবও, কিন্তু ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।”
ট্রাম্পের এই ভাষণ প্রদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লিখিত বিবৃতি দেন কমান্ডার জেনারেল পাকপৌর।
গত বছর জুন মাসে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠকের মধ্যেই দেশটিতে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। ১২ দিন স্থায়ী হওয়া সেই সংঘাতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং নিহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী।
সেই হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক চরম তিক্ত অবস্থায় আছে।
এদিকে দাভোস সম্মেলন থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে নজরে রাখতে দেশটির সমুদ্র উপকূলে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : এএফপি
এসএমডব্লিউ