ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননে নিজেদের দূতাবাসের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মীকে ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল রাজধানী বৈরুতের বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটে উঠেছেন মার্কিন দূতাবাসের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মী।
বিজ্ঞাপন
লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে এ তথ্য। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে মার্কিন কর্মকর্তারা দূতবাস খালি করার বিষয়ক আদেশ জারির ব্যাপারটি স্বীকার করে জানিয়েছেন, লেবাননের মার্কিন দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মকর্তা-কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর এই আদেশ প্রযোজ্য।
তবে দূতাবাস বন্ধ করা হয়নি। পরবর্তী আদেশ আসার আগ পর্যন্ত ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্বারা খুব সীমিত পর্যায়ে দূতাবাসের কার্যক্রম চালানো হবে।
“এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ। লেবাননে আমাদের দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা নিয়মিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি এবং সর্বশেষ পর্যালোচনার পর বৈরুত দূতাবাসে নন-ইমার্জেন্সি কর্মকর্তা-কর্মীদের ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”, এএফপিকে বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, লেবাননে এখনও ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রভাব ব্যাপক এবং যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, তাহলে লেবাননে তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। সেক্ষেত্রে হিজবুল্লার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হবে বৈরুতের মার্কিন দূতাবাস।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই যুগের বেশি সময় ধরে উত্তেজনা চলছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। বর্তমানে এই পরমাণু প্রকল্প নিয়ে জেনেভায় সংলাপে বসেছেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা।
তবে এই সংলাপের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ব্যাপক আকারে সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে সেখানে সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : এএফপি
এসএমডব্লিউ
