প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার অভিযোগে উগান্ডায় দুই তরুণী গ্রেপ্তার

প্রকাশ্যে একে অপরকে চুমু খাওয়ার অভিযোগে পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম কঠোর সমকামীবিরোধী আইনের আওতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার দেশটির পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।
উগান্ডার ২০২৩ সালের সমকামীবিরোধী আইনে পারস্পরিক সম্মতিতে সমলিঙ্গের সম্পর্কের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এমনকি ওই আইনে ‘গুরুতর সমকামিতা’র ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
দেশটির রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উত্তরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরুয়া শহরে প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ বছর বয়সী ওই দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোনও ধরনের আইনি সহায়তা ছাড়াই গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র জোসেফাইন আঙ্গুসিয়া ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ওই দুই তরুণী সমকামিতায় লিপ্ত ছিলেন বলে প্রতিবেশীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগে প্রতিবেশীরা বলেছিলেন, তাদের প্রকাশ্যে পরস্পরকে চুমু খেতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীরা প্রমাণ হিসেবে ছবিও তুলেছেন।
আঙ্গুসিয়া বলেন, তারা (প্রতিবেশীরা) অনেক নারীকে ওই দুই তরুণীর এক কক্ষের ভাড়া বাসায় যেতে এবং রাত কাটাতে দেখেছেন। তারা ধারণা করছেন সেখানে সমলিঙ্গের যৌন কর্মকাণ্ড চলত।
দেশটির পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আদালতে হাজির করার সম্ভাবনা যাচাই ও নির্দেশনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে মামলাটি পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মানবাধিকার কর্মী ফ্রাঙ্ক মুগাশি ওই দুই তরুণীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘এই ঘটনা সমকামীবিরোধী আইনের শিকার ব্যক্তিদের মুখোমুখি হওয়া ভয়াবহ বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।
মুগাশি বলেন, এটি ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি করেছে। অপরাধীরা এখন এই আইনকে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের ওপর চড়াও হওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ তারা জানেন, ভুক্তভোগীরা সুরক্ষা চাইতে ভয় পাবেন।
পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডা একটি রক্ষণশীল এবং প্রধানত খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাষ্ট্র। দেশটির এই সমকামীবিরোধী আইন মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
এর আগে বিশ্বব্যাংক দেশটিতে অর্থায়ন স্থগিত করেছিল। যদিও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে তা পুনরায় শুরু হয়। সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ এলাকা আবিইয়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা মোতায়েন রয়েছে।
সূত্র: এএফপি।
এসএস