‘ইরানি আগ্রাসন’ নিয়ে পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

সৌদি আরবের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে ‘ইরানি আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে রিয়াদ। গতকাল শুক্রবার সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এ ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিভাগ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
বৈঠক শেষে ইরানকে ‘বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের মাধ্যমে’ পরিস্থিতি অনুধাবন করা এবং বেহিসাবি হামলা না করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ইরানের আগ্রাসী হামলা নিয়ে প্রতিরক্ষমন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিভাগ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় হয়েছে এ বৈঠক।”
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। পরে এই জোটে যোগ দেয় তুরস্কও। ন্যাটোর আদলে তৈরি সেই চুক্তির নথিতে বলা হয়েছে, চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ যদি বাইরের কোনো দেশ বা শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে সেই হামলাকে স্বাক্ষরকারী সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং যৌথভাবে সেই হামলার মোকাবিলা করা হবে।
ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজের ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টেও একটি বিবৃতি পোস্ট করেছেন সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেছেন, “আজ আমি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং এই মর্মে একমত হয়েছি যে ইরান বেহিসাবি হামলা চালাচ্ছে এবং এ ধরনের হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। আমরা আশা করছি, ইরান যথাযথ বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপগুলো নেবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান। গতকাল সৌদির মার্কিন ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস এবং দেশটির একটি তেলের খনি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সহযোগিতায় সেই হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে সৌদির প্রতিরক্ষা বাহিনী।
সূত্র : আলজাজিরা, এএফপি
এসএমডব্লিউ