নিথর খেলার মাঠ, নিস্তব্ধ গ্রাম : এক হামলায় তাকি পরিবারের ৯ প্রাণ বিসর্জন

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাম ইর্কায়। গত পরশু যেখানে শৈশবের হাসিতে মুখর ছিল তাকি পরিবারের আঙিনা, বৃহস্পতিবার সেখানে কেবল কান্নার রোল আর লাশের সারি। ইসরায়েলি এক অতর্কিত বিমান হামলায় মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এই পরিবারের সব আনন্দ।
বিজ্ঞাপন
১৩ বছরের জয়নব, ১২ বছরের জোহরা, ৯ বছরের মালিকা এবং মাত্র ৬ বছরের ছোট্ট ইয়াসমিনা। চার বোন। বুধবার বিকেলে তারা তাদের দাদা-দাদির বাড়ির উঠানে একসঙ্গে খেলছিল। কিন্তু আকাশ থেকে নেমে আসা এক মরণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই কেড়ে নিল তাদের প্রাণ। শুধু এই চার বোনই নয়, তাদের সঙ্গে মারা গেছেন তাদের দাদা-দাদি, দুই চাচা এবং এক চাচাতো ভাই। পরিবারের মোট ৯ জন সদস্য এক নিমেষেই হারিয়ে গেছেন।
পরদিন সকালে যখন অ্যাম্বুলেন্স থেকে সাদা কাফনে মোড়ানো দেহগুলো নামানো হচ্ছিল, গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের গগনবিদারী চিৎকারে। জীর্ণশীর্ণ একটি চাদরের ভেতরেই ছিল দুটি ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ। মা সুজান তাকি নিজে কবরে নেমে সন্তানদের শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরেন। চার বোনকে বৃহস্পতিবার তাদের দাদা-দাদি আর চাচাদের পাশেই সারি বেঁধে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
হামলার ক্ষত এখনও দগদগে বাবা মোহাম্মদ রিদা তাকির শরীরে। ব্যান্ডেজে মোড়ানো মুখ নিয়ে তিনি সিএনএন-কে শোনালেন তার ছোট মেয়ে ইয়াসমিনার শেষ আবদারের কথা। ইয়াসমিনা চেয়েছিল তার গলায় এমন একটি নেকলেস থাকবে যেখানে তার নিজের নামের বদলে লেখা থাকবে— ‘বাবার আত্মা’ (Daddy’s Soul)।
সন্তানদের মাটি দেওয়ার পর এখন সেই হতভাগা বাবার একটিই লক্ষ্য— ধ্বংসস্তূপের নিচে পাগলের মতো খুঁজে বেড়ানো সেই ছোট্ট নেকলেসটি। যা এখন তার কলিজার টুকরো মেয়ের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বৃহস্পতিবার পুরো দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ দিলেও এই নির্দিষ্ট হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি। গ্রামবাসীর দাবি, সেখানে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না; কেবল ছিল একান্নবর্তী একটি সুখী পরিবার।
বিজ্ঞাপন
সূত্র : সিএনএন।
এমএআর/